বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ

EC-Officers-Gradationনানা ধরনের জটিলতার পর অবশেষে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৩৮৬ কর্মকর্তার তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাবেদ উর রহমান স্বাক্ষরিত এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বলা হয়, নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা ২০১১ এর ৯ বিধি অনুযায়ী চূড়ান্তকৃত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করা হল।

তবে এ তালিকায় স্থান পাওয়া এক ডজনেরও বেশি কর্মকর্তা এরইমধ্যে অবসরে চলে গেছেন বলে ইসি সূত্রে জানা যায়। আবার বাদ পড়েছে বর্তমানে দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম।

গেজেটে দেখা যায়, ৩৮৬ কর্মকর্তার মধ্যে প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা এরইমধ্যে অবসরে চলে গেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক মো. মহসীন আলী, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিভোর কুমার বিশ্বাস, ইসির উপ-সচিব মু. আবদুল অদুদ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল কালাম মোল্লা, মো. সাজাহান খাঁন, মো. মতিয়ার রহমান, সফিকুল আলম খান ও  মো. সামসুল আলমসহ আরও অনেকে।

ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার স্বার্থে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রণয়নে গ্রেডেশন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। এখন থেকে এ তালিকা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। এতে সরকারের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারি (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১ অনুসরণ করা হবে।

ইসি কর্মকর্তারা আরো জানান, অতীতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি না হওয়ার কারণে অনেক জুনিয়র অফিসার সিনিয়র হয়ে গেছেন। এমনকি চাকরিতে সিনিয়র হওয়ার পরও পদোন্নতি-বঞ্চিত অনেক কর্মকর্তাকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত জুনিয়রের অধীনে চাকরি করতে হয়েছে। এমনকি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মতামত উপেক্ষা করে জ্যেষ্ঠতার বিষয়ে কমিশন নীতিমালা প্রণয়ন করে পছন্দের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়েছে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রথম শ্রেণির নন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদানে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করার নজির রয়েছে।

নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারি (জ্যেষ্ঠতার ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১২ এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠালে তা ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি নাকচ হয়ে যায়। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারি (জ্যেষ্ঠতার ও পদোন্নতি) বিধিমালা, ২০১১’র বিধি ১(২) মতে জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য ছাড়া সকল শ্রেণির নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারির জন্য ওই বিধিমালার বিধান প্রযোজ্য। সেহেতু এই বিধিমালার বাইরে আলাদা কোনো বিধিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

পরবর্তীতে কমিশনের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তালিকা প্রণয়নে কমিশনের যুগ্ম-সচিব আইনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আইনের নানা দিক পর্যালোচনা করে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়। যা নিয়ে কমিশন সচিবালয় ও মাঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

দীর্ঘদিন প্রতিবেদনটি আটকে থাকার পর ২০১৫ সালের এপ্রিলে কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর দীর্ঘদিন পর চলতি মাসের ১৫ জুন চূড়ান্ত তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করে কমিশন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, বিধি অনুযায়ী কমিশন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী পদোন্নতি দিতে একটি গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়ন করেছে। এ গ্রেডেশন তালিকা অনুযায়ী ইসি সচিবালয় এবং মাঠ কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।

৩৮৬ কর্মকর্তার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রকাশ হওয়া গেজেটটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন:

আরও পড়ুন