মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে ডিবি কার্যালয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের সাংবাদিক রাজনৈতিকব্যক্তিসহ বিশিষ্টজনদের মধ্যে ঝড় উঠেছে।
প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক ফজলুল বারী তার ফেসবুক পেইজ লিখেন, রাষ্ট্রের মাথা কী পুরোটাই আউলাইয়া গেছে! পুলিশের এসপি বাবুল আখতারের স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশে কম্বিং অপারেশন চালানো হলো! এত লোক গ্রেফতার করা হলো! আর এখন স্ত্রী হত্যার দায়ে সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করা হয়েছে বাবুল আখতারকে! একজন এসপিকে আটক করতে সরকারের উর্ধতন মহলের অনুমতি লাগে। সেটি দেয়া হয়েছে বলে তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু খেলাটা কোথাকার দেখতে জানতে হবে।
ফজলুল বারী বলেন, চট্টগ্রামের বাবুলের ডায়নামিক কাজকর্মে সেখানকার পুলিশ সহ কোন মহলই স্বস্তিতে ছিলোনা। তাঁরাই এখন বাবুলকে ফাঁসাচ্ছে কীনা জানতে হবে। এই ছবিটি দেখুন। নিজের স্ত্রীকে হত্যা করে কেউ এভাবে শিশুর মতো কাঁদতে পারে? আর নিজের সোর্স দিয়ে বাবুল নিজের স্ত্রীকে খুন করাবেন!
তিনি বলেন, এতোই কী কাঁচা বুদ্ধির লোক ছিলেন আমাদের বাবুল আখতার? আর তিনিতো পালিয়ে ছিলেন না। পুলিশ যখন ডেকেছে তখনই তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তিনি কথা বলতে গেছেন। এমন একজনকে পুলিশ দিয়ে নাটক করে তুলে নিয়ে যেতে হবে কেনো? শুধু পুলিশের ভাষ্য নয়, আশা করছি আমার প্রিয় প্রজন্ম কোন একজন অনুসন্ধানী রিপোর্টার পুরো বিষয়টির সত্য বিশ্বস্ততার সংগে তুলে আনবেন।
বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, তাহলে যারা বিরোধী দল আর জঙ্গি দায়ী বলে টকশো তে এত কথা বলল। তাহলে কি পুলিশ দায়ী এই খুনে ? রিমান্ডে আবার পৎড়ংং ভরৎব হবে না তো?
সাংবাদিক পুলক ঘটক বলেন, এসপি বাবুল আক্তার নিজেই এখন পুলিশ হেফাজতে। হয়তো আজ কালের মধ্যেই বোঝা যাবে ঘটনা কোন দিকে গড়ায়। মিতু হত্যার মূল রহস্য জনসমক্ষে প্রকাশ পাবে এবং বিচার হবে- এ বিশ্বাস আমার আছে। এর জন্য পুলিশ বাহিনীকে আগাম অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে রাখছি। একই দিনে খুন হওয়া একজন গরীব মানুষ সুনীল গোমেজ ও তার অসহায় পরিবার যদি প্রতিকার পায় তাহলে পুলিশের প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকেই কৃতজ্ঞতা জানাবো। এখন পর্যন্ত বাস্তবতা হল সুনীল গোমেজ হত্যা রহস্যের কোনো কিনারা পাওয়া যায়নি। টার্গেট কিলাররা অধরা রয়ে গেছে। টার্গেট কিলারদের একটা বিশ্বাস ও একটা দর্শন আছে। সেই বিশ্বাস ও দর্শনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়নি। (এ বিষয়ে ব্লগার সানিউর রহমানের একটা ব্যঙ্গ ভিডিওর লিংক মন্তব্যের ঘরে যুক্ত করে দিচ্ছি)। রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে সেই দর্শনকে মোকাবেলার কোনো উদ্যোগ নেই। চিরায়ত বাঙালি সমাজ ভেঙ্গে যাচ্ছে-ডুবে যাচ্ছে কুপমন্ডুকতার অন্তরালে।
সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ যে পুলিশ সুপার বাবুল ভাইকে বাড়িতে ফেরত পাঠিয়েছেন। গতকাল রাতেই বলেছিলাম জজ মিয়ার নাটক বানানাে রাষ্ট্রকে আমি অনেক সময় অবিশ্বাস করি কিন্তু খুব সহজে মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারাই না। কিন্তু কিছু সংবাদমাধ্যম যা করলেন সেটা নোংরামি। আর রাষ্ট্র ও পুলিশ বাহিনীতে যে বাবুল আক্তারের শত্রুর অভাব নেই সেটাই দেখলাম।
সাজ্জাদ মাহমুদ খান বলেন, এসপি বাবুল আক্তার..নীতি-নৈতিকতাহীন সাংবাদিকতা এবং লুকোচুরি পুলিশিং। রাতদিন নাটকীয়তার পর বাসায় ফিরলেন এসপি বাবুল আক্তার..বাবুল আক্তার নিজে এবং পুলিশের উধ্বর্তনেরা বললেন তথ্য নিতে তাকে ডাকা হয়েছিল..অথচ বাবুল আক্তারকে স্ত্রীর খুনি বানিয়ে ফেললো কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল..আসমান থেকে আসা সূত্রের বরাত দিয়ে হত্যাকান্ডে এসপির সংশ্লিষ্টতা আর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাহিনী লিখে ফেললো..এই ধরনের ঘটনায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে বক্তব্য নেয়ার কেনো নীতি নৈতিকতাই মানা হল না..এই ধরনের স্পর্শকতার ঘটনায় পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কাউকে অপরারী বানিয়ে ফেলা জাতির বিবেক সাংবাদিকদের কাছ মানুষ এটা প্রত্যাশা করে না..আর একজন পুলিশের এসপির কাছ থেকে তথ্য নিতে পুলিশের এত লুকোচুরি কেনো! নীতি নৈতিকতা মানুন-সৎ এবং স্বচ্ছ হন।


