শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » ধর্ম » গেণ্ডারিয়ায় হিন্দু জমিতে গড়া মসজিদে নামাজ না পড়ার সিদ্ধান্ত
বিশেষ নিউজ

গেণ্ডারিয়ায় হিন্দু জমিতে গড়া মসজিদে নামাজ না পড়ার সিদ্ধান্ত


NEWSWORLDBD.COM - June 27, 2016

Gendaria Hindu Land Mosqueঢাকায় দেশত্যাগী হিন্দুদের অর্পিত সম্পত্তি  দখলে নিয়ে হঠাৎ করে গড়ে তোলা একটি মসজিদ নিয়ে কয়েকদিনের উত্তেজনা শেষে সোমবার সর্বপক্ষীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নির্মাণাধীন ওই মসজিদে আপাতত নামাজ পড়া হবে না। গেণ্ডারিয়া থানার ওসি কাজী মিজানুর রহমান এই তথ্য জানান।

ঢাকার গেণ্ডারিয়া এলাকার কালী চরণ সাহা রোডের ৩১ নম্বর হোল্ডিংয়ে হিন্দু সম্পত্তিতে একটি মন্দিরের পাশে মসজিদ তৈরি শুরু করে শুক্রবার সেখানে জুমার নামাজ আদায় শুরু হয়। সেই থেকে চলছে উত্তেজনা। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনে তোলপাড় তৈরি হয়। রোববার সংঘাতমুখর পরিবেশ তৈরি হলে পুলিশ উদ্যোগী হয়। যদিও রবিবার রাত পর্যন্ত সেখানে নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা। তবে সোমবার দুপুরে গেণ্ডারিয়া থানায় হওয়া বৈঠকে নামাজ না পড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে হিন্দু সম্পত্তি দখল করে মসজিদ নির্মাণের নামে জমি দখলের প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকার শাঁখারি বাজারে প্রতিবাদী মানবশৃঙ্খল করে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

সোমবার দুপুরের ওই বৈঠকে ঢাকা জেলা প্রশাসন, গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ ও কালী চরণ সাহা রোডের মসজিদ নির্মাণের উদ্যোক্তা, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নেতাদের সমন্বয়ে বৈঠক হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি বিরোধপূর্ণ জায়গাটির বিষয়ে ঢাকা জেলা শাসক বরাবর আবেদন করে। এরপর পরই জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শহীদুল ইসলাম ওই এলাকায় ভূমি অফিসের কর্মীরা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও তার অনুসারী মুসল্লিদের নিয়ে একটি বৈঠকের আহ্বান করেন এবং বিরোধপূর্ণ জমি পরিদর্শন শেষে নামাজ আদায় না করার সিদ্ধান্ত দেন তারা।

গেন্ডারিয়ার স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দাবি করছেন যে স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানে একটি মন্দির ছিল। মিলব্যারাক সমাজকল্যাণ সংগঠনসহ ৫ব্যক্তির নামে স্থানটি লিজ নেয়া হয় এবং ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই স্থানে কোনো মন্দির ছিল না। গত শুক্রবার মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে নামাজ পড়া শুরু হয় এবং রোববার মসজিদটিতে জোহরের নামাজ আদায় করেছে মুসল্লিরা। কিন্তু গেন্ডারিয়া থানায় জিডি করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুসল্লিদের নামাজ পড়া থেকে নিবৃত্ত করেন।

স্থানীয় হিন্দুরা দাবি করেছেন, এখানে মন্দির ছিল, জমিটি একজন হিন্দু ব্যক্তির অর্পিত সম্পত্তি। জানা যায়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে গেণ্ডারিয়ার কালী চরণ সাহা এলাকার ৩১ নম্বর হোল্ডিং-এর ৩৮৪ অযুতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিল রাধারানী দাস। একাত্তরের পর এটি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত হয়, যেখানে এখন মুসলমানরা দখল করে মসজিদ নির্মাণ করছে- এমন অভিযোগ হিন্দুদের। এজন্য গত শুক্রবার গেণ্ডারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গেণ্ডারিয়া থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ কুমার রায়। রোববার সকালে এটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ওয়ারী জোনের পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) নুরূল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সেখানে যায়। জায়গাটি নিয়ে যেহেতু আইনি ঝামেলা চলমান সেহেতু মসজিদে উপস্থিত মুসল্লি ও মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের পুলিশ জানিয়ে দেয়, মসজিদ নির্মাণ বন্ধ রাখতে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে ‘মিল ব্যারাক সমাজ কল্যাণ সংগঠনের’ সাধারণ সম্পাদক শরীফকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

যারা এই মন্দির দখল করে মসজিদ তৈরি করার চেষ্টা করছেন তারা কারা? সুত্রে জানা যায়,  একটি চক্র আছে যারা তথাকথিত আওয়ামী লীগের কর্মী বলে পরিচয় দেয় তবে তারা আসলে আওয়ামী লিগ করে কিনা? বিএনপি জামাত ক্ষমতায় থাকা কালে তারা এলাকায় পরিচিত ছিল বিএনপির কর্মী হিসেবে। এখন তারা পরিচয় দেয় বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমির সদস্য হিসেবে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.