গতকাল থেকে আমার ফেসবুকের সংবাদপ্রবাহে ”হিরো আলম / Hero Alom” এর নামে ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
অনেকের ফেসবুক বক্তব্য পড়ে এমন মনে হয়েছে যেন, হিরো আলমের মতো গেঁয়ো, কালো, বেঁটে এবং অশিক্ষিত ছেলের নায়ক হিসেবে স্বপ্ন দেখা এবং নায়ক হওয়ার চেষ্টা করাটা ঘোরতর অন্যায়।
আমরা বাঙালিরা যেন অন্যকে উৎসাহ বা অনুপ্রেণা দেয়ার চাইতে ঠাট্টা – বিদ্রুপ করে মজা নিতেই বেশি পছন্দ করি। আমরা নিজেরা তো কিছু করি না বরং কেউ কিছু করতে গেলে তাকে এক কদম এগিয়ে যেতে সাহায্য করার পরিবর্তে টেনে হিচঁতে অপদস্থ করে নিচে নামাতে বা থামিয়ে দিতেই বেশি ব্যস্ত।
আমি হিরো আলমের ভিডিও গুলো দেখে বুঝলাম তার মধ্যে যা আছে তা আমাদের সমাজের অনেক হিরোমার্কা, সুদর্শন, স্বাস্থ্যবান, ধনীর দুলালের মাঝেও নেই, আর তা হলো প্রতিভা আর নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার সৎসাহস। এইজন্য আমি তার প্রশংসা করি এবং এটি তার প্রাপ্য বলেই বিশ্বাস করি।
আমি মনেকরি আমরা জাতি হিসেবে আরো উন্নত হতে পারবো যদি আমরা মানুষকে তার উচ্চতা, চেহারা বা গায়ের রঙের পরিবর্তে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে শিখি। মানুষকে তার কাজের জন্য প্রশংসা করতে শিখি।
আমাদের জেনে রাখা উচিত মানুষকে তার কাজের জন্য প্রশংসা করলে আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং যার প্রশংসা করবেন তার অন্তরে শক্তি যোগাবে আরো দুই কদম এগিয়ে যেতে, ভালো কিছু করতে।
কাউকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করার আগে তার অবস্থানে নিজেকে একটু কল্পনা করুন, আশাকরি তার অবস্থান খানিকটা হলেও অনুধাবন করতে পারবেন।
হিরো আলম নিজেও জানে যে বাংলাদেশে হিরো হতে গেলে বুকভরা স্বপ্ন ছাড়া আর যা যা থাকতে হয় তার কোনোটাই হয়তো তার নেই। আর এ জন্য তাকে নিয়ে ঠাট্টা – বিদ্রুপ করে তাকে থামিয়ে দেয়ার প্রয়াস করে আপনাদের কথিত সেই গেঁয়ো, কালো, বেঁটে এবং অশিক্ষিত হিরো আলমের চোখে নিজেদেরকে ছোট করছি না?
তাকে একটু প্রশংসা করেই দেখুন, তার বাংলা বানানের ভুল গুলো শুধরে দিয়েই দেখুন না কি হয়। আপনার সহযোগিতা আর অনুপ্রেণায় সেও তো হতে পারে আগামীর অনন্ত জলিল। ভুলে যাবেন না, অসম্ভবকে সম্ভব করাই অনন্তের কাজ। তাই আসুন হিরো আলমের মতো সকল স্বশিক্ষায় শিক্ষিত আর ছোট বড় সকল প্রতিভাবানদের প্রশংসা করি আর অনুপ্রেরণা যোগাই। আর বাংলার প্রতিটি ঘর ভরে উঠুক প্রতিভাবানদের উজ্জ্বল আলোয়।
আরিফুর রহমান: কার্টুনিস্ট।
হিরো আলমের মিউজিক ভিডিও দেখুন:
https://youtu.be/Lb-VYCKXcZg



