যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় মালামাল বোঝাই ডব্লিউ-২৫ ঊ ৪৩১৭ ও ডব্লিউ-২৫ ঊ ৮৪০৬ নম্বরের দু’টি মিনি ট্রাক দ্রুতগতিতে বেনাপোল সীমান্তে প্রবেশ করে। রোববার বিকালের দিকে এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও ভারতের পেট্ট্রাপোল বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা ট্রাক দু’টি ভারতে ফেরত নিয়ে যেতে বেনাপোল চেকপোস্টে এসে বিজিবি ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের নিকট দাবি পেশ করেন।
তবে বিজিবি ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাফ জানিয়ে দেয় বাংলাদেশের মধ্যে ঢোকা কোন অবৈধ মালামাল বা ট্রাকের দায় দায়িত্ব বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি)। সে হিসেবে বিজিবি ট্রাক দুটি তাদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। তবে এখন পর্যন্ত আটকৃত মালামালের কেউ দাবি করেনি।
তবে ট্রাক দু’টিতে কি মালামাল আছে তা এখনো স্পস্টভাবে বলতে পারেনি কাস্টমস ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বেনাপোলে চেকপোস্টে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
চেকপোস্ট কার্গো শাখায় দুটি পণ্যের আমদানি রুট নম্বর দেয়া হয়েছে। ভারতের বনগাঁ অঞ্চলের রফতানিকারক ইস্পার্ক ইন্টারন্যাশনাল পণ্য বোঝাই ট্রাক দুটি বাংলাদেশে রফতানি করেন।
সাতক্ষীরার আমদানিকারক সাজিদ এন্টারপ্রাইজ ৬০ প্যাকেজ টাওজার আমদানির জন্য ১০ জুন ব্যাংকে ঋণপত্র খোলেন যার এলসি নং ০৫১০১৬০১০২০৪। ১১৩৬ কেজি টাউজারের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৮৪০ মার্কিন ডলার। যার কার্গো মেনিফেস্ট নং ৩০৬৪৪/১ তারিখ ২৬ জুন।
অপরদিকে সাতক্ষীরার অপর এক আমদানিকারক আশিক এন্টারপ্রাইজ ৬০ প্যাকেজ টাওজার আমদানির জন্য তারিখ ৮ জুন ব্যাংকে ঋনপত্র খোলেন। যার নং ০৫১০১৬০১০১৯৯। ৯৯৮.১০ কেজি টাউজারের মূল্য দেখান ২৪০০ মার্কিন ডলার। যার কার্গো মেনিফেস্ট নং ৩০৬৩৭/১ তারিখ ২৬ জুন।
তবে টাউজার থাকার কথা থাকলেও ট্রাক দুটিতে থ্রিপিস, বেবীসুট, টি শার্ট জাতীয় পণ্য রয়েছে বলে চেকপোস্টের একটি সূত্র জানায়।
এদিকে বিজিবির বক্তব্য গাড়ি দু’টিতে অবৈধ পণ্য থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাই তল্লাশি না করে ছাড়া হবে না। আর কাস্টমস বলছে, আমদানি পণ্যের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব কাস্টমসের। তাই কোনো কিছু করতে হলে তা কাস্টমস কর্মকর্তারাই করবে। শেষ পর্যন্ত এ অবস্থায় বিজিবি সদস্যরা গাড়ি দু’টি আটক করে তাদের হেফাজতে রেখেছে।
যশোর ২৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ট্রাক দু’টি বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা ট্রাক দুটিকে আটক করেন। আটককৃত মালামালের মালিকানা দাবি করে কেউ আসেনি বা কেউ ফোনও করেনি। আটক ট্রাক দু’টি ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা ভারতে ফেরত নেয়ার জন্য কয়েক দফা দাবি জানালেও তা প্রত্যাখান করা হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তারাও ট্রাক দু’টির দায়-দায়িত্ব নিতে চাইলেও তা তাদের দেয়া হয়নি। তবে ট্রাক দু’টিতে কোন ধরনের মালামাল আছে তা এখনও তল্লাশী করা হয়নি।
বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার এএফএম আব্দুল্লাহ খাঁন বলেন, ভারতের কাস্টমসে এন্ট্রি করে ট্রাক দু’টি মালামাল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে এন্ট্রিতে সম্ভবত কিছু ভুল হওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিএসএফকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাক দু’টি ফেরত চাইতে এসেছিল বাংলাদেশে। কিন্তু ভারতীয় কাস্টমস ও বিএসএফ ট্রাক দু’টিকে ফেরত চাওয়াতে বিজিবির সন্দেহ হয়। এ কারণে বিজিবি কর্তৃপক্ষ ট্রাক দুটিকে আটকে দেয়। আমরা বার বার ট্রাক দু‘টির দায়িত্ব নিতে চাইলেও বিজিবি তা প্রত্যাখ্যান করে।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা কেউ নিয়মের বাইরে না। ওই গাড়িতে যদি অবৈধ কোনো কিছু থাকে আইন অনুযায়ী তা দেখবে কাস্টমস। এসময় বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা উপস্থিত থাকতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু বিজিবি আমদানি পণ্যের গাড়ি আটকে রেখে অনিয়ম করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পাল্টা অভিযোগ করে ২৬ ব্যাটালিয়নের বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, যেহেতু গাড়ি দু’টি ভারতের কাস্টমসে এন্ট্রি করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে। তাই বিএসএফকে গাড়ি দেয়া হয়নি। সিও স্যারের (লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন) নির্দেশে পিকআপ ভ্যান দু’টি আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কাস্টমস সদস্যদের উপস্থিতিতে কাগজপত্রের সঙ্গে গাড়িতে থাকা পণ্যের মিল থাকলে স্যার ছেড়ে দিতে বলেছেন। কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তারা বিজিবির সমন্বয়ে তল্লাশি করতে রাজি হচ্ছে না।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে আজ সোমবার বিজিবি ও কাস্টমস যৌথভাবে আটককৃত ট্রাকে থাকা পণ্য ও কাগজপত্র পরীক্ষণ করে দেখতে সম্মত হয়েছেন।


