ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চালু হওয়া বিরতিহীন নামের ‘সোনার বাংলা’ ট্রেনের গতি ও সময় আহামরি কম না লাগায় এবং দামের তুলনায় নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে সাধারণ যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। যাত্রা শুরুর প্রথমদিনেই ঢাকা ও চট্টগ্রামে উভয়পথে ট্রেনটি ১৪৯২টি টিকেটের মধ্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩১৪ টিকিট। এতে চট্টগ্রামে ১৮৭টি ও ঢাকায় ১২৭টি।
মূলত বিরতিহীন ট্রেনের নামে অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি খাবার সরবরাহের জন্য যাত্রীপ্রতি ১৯৫ টাকা আরোপ করায় ট্রেনটির প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া অনেকে বলছেন, এতো ঘটা করে বিরতিহীন করে লাভ কি, সময় যদি অন্য ট্রেনগুলোর মতোই সাড়ে পাঁচঘণ্টা লাগে? ঢাকা-চট্টগ্রাম তো চার ঘণ্টার বেশি লাগার কথা নয়?
প্রতিটি টিকিটের সাথে ১৯৫ টাকার খাবার সংযুক্ত থাকায় প্রতিটি টিকিটের দাম এক তৃতীয়াংশ বেড়ে গেছে। এই রুটে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা থাকলেও শুধুমাত্র খাবার সংযুক্ত করায় সর্বমোট ১৪৯২ টিকিটের মধ্যে ৩১৪টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রথমদিনে ৭০/৮০ টাকার খাবারকে ১৯৫ টাকায় পাওয়ায় যাত্রীদের ক্ষোভ ও হতাশার কথা ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া ছড়ায়। এসব কারণে এই ট্রেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে বলেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওযা ট্রেনে ১৯৫ টাকার খাবার মেন্যুতে দুটি খেজুর, একটি করে আপেল, জুস ও কেক সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে রোজার ইফতারি হিসাবে যাত্রীদের দেয়া হয়েছে ২টি পেঁয়াজু, বেগুনি ১টি, খেজুর ২টি, জিলাপী ১টি, জুসপ্যাক ও আপেল একটি করে। এতে ট্রেনটির বিষয়ে অনেক যাত্রীই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ এসব খাবার প্রকৃতপক্ষে ৮০ টাকার বেশি তাম হওয়ার কথা নয়।
তবে এ ট্রেন নিয়ে যাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি বিষয়ে রেলমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা ও নজরদারি থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘কৌশলী’ ভূমিকার কারণে খাবারসহ টিকেটের দামের বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে রেল অঙ্গনসহ যাত্রীদের মাঝেই। এ বিষয়ে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) আমজাদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রবিবার প্রথম দিনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটিতে ১২৭টি টিকিট থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৯০ টাকা আয় করেছে রেলওয়ে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়া ট্রেনটিতে ১৮৭টি টিকিট বিক্রি করেছে সর্বমোট ১ লাখ ৫০ হাজার ৬১১ টাকা। স্বাভাবিক নিয়মে ট্রেনটিতে ৭৪৬ টিকিটে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রির কথা ছিল।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করা একজন যাত্রী বলেন, বিরতিহীন ট্রেন হিসেবে প্রথম ভ্রমণ করছি। তবে যে পরিমাণ ভাড়া আদায় করা হয়েছে সে হিসেবে সেবা পাওয়া যায়নি। খাবার মেন্যু বাবদ ১৯৫ টাকা ও সার্ভিস চার্জ নেয়া হলেও নামমাত্র ইফতারি সরবরাহ করা হয়েছে। এভাবে সেবা প্রদান করলে খাবার মেন্যুযুক্ত এ সার্ভিসে দ্বিতীয়বার ভ্রমণ করা অসম্ভব।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের নিয়মিত একজন যাত্রী বলেন, ট্রেনটির ভ্রমনসূচি পুর্নবিবেচনা করা দরকার। সকাল সাতটায় বিরতিহীনভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার যাত্রী খুব একটা হবে বলে মনে হয় না। তিনি আরও বলেন, টিকেটের সঙ্গে খাবারের দাম না রেখে এক বোতল পানি ও দুই কাপ চায়ের দাম রাখা যেতে পারে। তবে বিলাসবহুল ট্রেনই যদি হয়, তবে খাবারের কারে বেশি ও ভালো মানের খাবার পরিবেশন করা যেতে পারে, যেন যাত্রীরা টাকা দিয়ে কিনে খেতে পারেন।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত ২৫ জুন শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে এগারটায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। রবিবার সকাল ৭টায় ট্রেনটি প্রথমবারের মতো ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রা শুরু করে।
সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের প্রতিটি শোভন চেয়ার টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৪৫ টাকা। এর সাথে ৩৫ টাকা বিরতিহীন চার্জ (মূল ভাড়ার ১০ শতাংশ হারে), পরিবেশিত খাবারের মূল্য ১৯৫ টাকাসহ সর্বমোট ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৬০০ টাকা।
অন্যদিকে, এসি চেয়ার টিকিটের মূল ভাড়া ৫৭০ টাকার সাথে আনুষঙ্গিক খরচসহ মোট ভাড়া ১ হাজার এবং এসি সিট টিকেটের মূল ভাড়ার ৬৮৫ টাকাসহ সর্বমোট ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা।


