এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার এহতেশামুল হক ভোলা ও মনিরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। যাদের মধ্যে, ভোলা মিতুকে হত্যায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
এর আগে বাকলিয়া থানায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ৫৮(৬)২০১৬ নস্বর মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। একই সাথে মিতু হত্যা মামলায়ও পিডাব্লিউ মূলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ভোলাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরিন আক্তার কাকন অস্ত্র মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে করা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করে তাদের কারাগারে পাঠান। তবে শুনানির পরবর্তী তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
অন্যদিকে মিতু হত্যা মামলায় আসামিদের জবানবন্দিতে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসাবে নাম আসা ভোলাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহনগর হাকিম নাজমুল হাসান চৌধুরী।
এরআগে ভোরে বাকলিয়ার রাজাখালী থেকে দুটি অস্ত্র ও গুলিসহ ভোলা ও মনিরকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় সিএমপি।
সকালে সিএমপির নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং এ সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, গ্রেপ্তারকৃত এ দুই আসামি মিতু হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিলার গ্রুপের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। যা গত রোববার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন অপর দুই আসামি মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম এবং আনোয়ার হোসেন। এ জন্য আরো তথ্য পেতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভোলা ও মনিরকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।’
রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুন অর রশীদের আদালতে জবানবন্দি দেন ওয়াসিম ও আনোয়ার। ওই সময় আসামি মোতালেব ওরফে ওয়াসিম জানান, ‘পুলিশের বড় সোর্স’ আবু মুছার নির্দেশেই এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে খুন করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে তারা আরো জানান, আবু মুছার নির্দেশে জিইসি মোড় এলাকার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুনের জন্য তারা গত ৫ জুন ভোরে জড়ো হয়। এই হত্যা মিশনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল মুছার ওপরই। তার নির্দেশনা মতে টাকার বিনিময়ে মোট সাতজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। তারা হলেন- আবু মুছা, ওয়াসিম, রাশেদ, নবী, কাুল, শাহজাহান ও আনোয়ার। এছাড়া অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে এহতেশামুল হক ভোলার নাম জানায় তারা।
গত ৫ জুন সকালে নগরীর জিইসি এলাকায় বাবুল আক্তারের স্ত্রী গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা। গ্রেপ্তারকৃত দুইজন কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল বলে দাবি পুলিশ কর্মকর্তাদের।


