অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গভর্নর ফজলে কবির।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করায় শুনানি শেষে সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণের সুপারিশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্থায়ী কমিটি। তাতে বুধবার বিকেলে অনুমোদন দেন গভর্নর। বৃহস্পতিবার সকালে চিঠি দিয়ে তাঁকে অপসারণের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তাঁর শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে জানান। তবে শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গভর্নর অনুমোদন দিয়েছেন—এর অর্থ হলো অপসারণের সব প্রক্রিয়া শেষ। এখন শুধু চিঠি দেওয়া বাকি। অফিস সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় কাল সকালে চিঠি যাবে।’
সূত্রটি জানায়, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবদুল হামিদ ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গ করে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মেসার্স জজ ভূইয়া গ্রুপের নামে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন অগ্রণী ব্যাংকের ওই এমডি ও ডিএমডি। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে মেসার্স তানাকা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান Swiss Quality paper BD Ltd.-এর নামে নিয়ম ভেঙ্গে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এমডি সৈয়দ হামিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রমাণিত অভিযোগ হলো বিতর্কিত সানমুন গ্রুপকে ঋণ প্রদান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে মুন গ্রুপের কর্ণধার মিজানুর রহমান মিজান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ প্রদানে অনিয়মে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ আবদুল হামিদ জড়িত থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এ অনিয়মের সঙ্গে এমডির জড়িত থাকার তথ্য তুলে ধরে সম্প্রতি ব্যাংকটির চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, অগ্রণী ব্যাংক এমডির জ্ঞাতসারে এবং তার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল শাখার একটি চক্র পরিচালনা পর্ষদকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে মিজানুর রহমান মিজান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করে আমানতকারীদের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঝুঁকিগ্রস্ত করেছে। সার্বিকভাবে যার দায়ভার ব্যাংকের এমডির ওপর বর্তায়।
চিঠি থেকে জানা যায়, যে ভবন নির্মাণের জন্য সানমুন বাংলাদেশ লিমিটেডকে ঋণ দেওয়া হয়, তার নকশা ১৯৯৮ সালে অনুমোদন হলেও ২০০২ সালে তা বাতিল হয়ে যায়। নকশা বাতিলের ১০ বছর পর ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করা হয়; যার সঙ্গে ব্যাংকটির এমডি সরাসরি জড়িত।
এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার দায়ে সৈয়দ আবদুল হামিদের পুনঃনিয়োগে আপত্তি জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির মুখেই গত ১০ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় তার পুনঃনিয়োগ দেয়। এরপর অনেকটা বাধ্য হয়ে ১৪ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে তার নিয়োগ প্রদান করে।


