ভারতের আসন্ন ১৫ই আগস্টে স্বাধীনতা দিবসের আগেই নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আসামের বাংলাদেশ ত্যাগী হিন্দুদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়ার কর্মসূচি শুরু করবেন কিনা সেটা এখন একটা বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী বা রাহুল গান্ধী কিংবা বড় কোনো কংগ্রেস নেতা মুখ না খুললেও আসামের রাজ্য কংগ্রেস থেকে ওই উদ্যোগের বিরোধিতার ইঙ্গিত করা হয়েছে।
আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা তরুণ গগৈ বলেছেন, ছয়টি জাতিগত ধর্মীয় সম্প্রদায়কে কেবল তফসিলি সম্প্রদায় হিসেবে ঘোষণা করতেও মোদি সরকার যখন গড়িমসি করছে, তখন আকস্মিকভাবে বাংলাদেশি হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিজেপি সরকার উতলা হয়ে উঠেছে। তাদের এই উদ্যোগকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ‘অবাঞ্ছিত তাড়াহুড়ো’ বলেও বর্ণনা করেন।
তিনি এই বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ভারতীয় দৈনিক টেলিগ্রাফকে বলেন, কংগ্রেস মনে করে না যে, মানবিক বিবেচনাতেও এ রকম হিন্দু অভিবাসীদের ভারতের নাগিরকত্ব দিতে হবে। তাদেরক নাগরিকত্ব প্রদানে কংগ্রেসে আপত্তি (রিজার্ভেশন) আছে।
উল্লেখ্য, ভারতের মিডিয়া রিপোর্ট থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনতে চাইছে যাতে তারা ধর্মীয় পরিচয়কে বড় করে হিন্দু বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদান করতে পারে।
আসু প্রেসিডেন্ট দিপঙ্কর কুমার নাথ বলেছেন, আগামী ১৫ই আগস্টের আগে যদি এই পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে রাজপথে নামা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
গতকাল আসামে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও নয়া বিজেপি সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আসু আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা কেবল হিন্দু বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দিতে আসাম সরকারের তোড়জোড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গত শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অল পার্টি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন আসু এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, আসাম চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। ওই চুক্তিতে পরিষ্কার বলা আছে, যারাই ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চের পরে আসামে ঢুকেছে তারাই অবৈধ বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হবে। তাই তারা কে কোন ধর্মের সেটা বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এরপরও বিজেপি সরকার যদি চুক্তি লঙ্ঘন করে এই পথে যায় তাহলে তাদের পক্ষে রাজপথের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
গৌহাটিতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে শুধু বাংলাদেশি হিন্দুদের রাজনৈতিক আশ্রয় ও নাগরিকত্ব দেয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে সরকারি নোটিশ জারি করেছে যা আসাম চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।
উল্লেখ্য, গত ছয় বছর ধরে আসু আসাম থেকে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।


