‘বস ফিনিশড, ওকে’। স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যার পর এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স কিলার মুসার মধ্যে এ ফোনালাপ হয়েছে বলে চট্টগ্রাম পুলিশের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, ৫ জুন সোমবার সকালে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় কিলাররা চারদিক থেকে তাকে অনুসরণ করছিলো। মিতু বাসা থেকে একটু সামনে নগরীর জিইসি মোড়ে যাওয়া মাত্রই মুসার নেতৃত্বাধীন কিলার গ্রুপের সদস্য নবী উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এসময় ওয়াসিম মিতুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান এসপি’র স্ত্রী মিতু। কিলিং মিশন শেষ হওয়ার পর এসপি বাবুল আক্তারকে মোবাইল ফোনে মুসা জানিয়ে দেয়, ‘বস ফিনিশড’। বাবুল আক্তার এসময় ‘ওকে’ বলে ফোনের লাইন কেটে দেন।
সূত্র আরো জানায়, ৭ লাখ টাকার কন্ট্রাক্টে খুন করা হয় পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে। এই খুনের সঙ্গে এসপি বাবুল আক্তার নিজেই জড়িত বলে তথ্য প্রমাণ রয়েছে পুলিশের হাতে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন পুলিশ সূত্রগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে সূত্রগুলো কেউই তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। সূত্রগুলো বলেছে, সোর্স মুসার অনিন্দ্য সুন্দরী স্ত্রীর সঙ্গে এসপি বাবুল আক্তারের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। প্রায়শই তিনি মুসার স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। পরবর্তীতে এই অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জেনে ফেলেন তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ নিয়ে দাম্পত্য জীবনে স্বামী বাবুল আক্তারের সঙ্গে মিতুর অশান্তি শুরু হয়। পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায়শই তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকতো।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, পথের কাঁটা সরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই বাবুল আক্তার তার স্ত্রী মিতুকে খুনের সিদ্ধান্ত নেন। এই খুনের দায়িত্ব দেন তার দীর্ঘদিনের সোর্স মুসাকে। সোর্স মুসা বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে চিনতেন না। এসপি বাবুল আক্তার মুসাকে জানান, ‘একজন মহিলা জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত। সে প্রতিদিন ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যায়। ওইসময় তাকে খুন করতে হবে। তা না হলে চট্টগ্রামে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যাবে। এই খুনের জন্য সরকারের তরফে ৭৭লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ারও প্রলোভন দেখানো হয় সোর্স মুসাকে। সূত্রগুলো বলেছে, টাকার লোভে মুসা কথিত জঙ্গি মহিলাকে খুন করতে রাজী হয়ে যায়। সে মোতাবেক মুসা তার পরিচিত ভাড়াটে কিলার ওয়াসিম, নবী, আনোয়ার, এহতেশাম ভোলা, শাহজাহান, কালু ও মনিরকে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করে। ঘটনার ১৫ দিন আগে সোর্স মুসার বাসায় মিতুকে খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে কিলার গ্রুপটি। কিলিং মিশনে কে কি দায়িত্ব পালন করবে সে সম্পর্কেও মুসা দিক-নির্দেশনা দেয় কিলার গ্রুপটিকে। বৈঠক শেষে প্রত্যেক কিলারকে নগদ ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দেয় মুসা।
বন্দরনগরীর পুলিশ সূত্রগুলো আরও বলেছে, খুনের আগের দিন সকালে মুসা চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে মিতুকে রেকি করতে যায়। গত ৫ জুন রোববার খুনের দিনক্ষণ ঠিক করে কিলাররা। ভোলা কিলার গ্রুপটিকে অস্ত্রের জোগান দেয়। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ায় মুসা ৪ জুন শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঢাকায় এসপি বাবুল আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে। ওইসময় বাবুল আক্তার অন্য একটি সেল টেলিফোন থেকে মুসার সঙ্গে কথা বলে। সূত্রগুলো বলেছে, এসময় মুসা কিভাবে মিতুকে মারা হবে তার একটি ছকও বাবুল আক্তারকে বলে। বাবুল আক্তার ‘ঠিক আছে’ বলে টেলিফোন লাইন কেটে দেয়। পরিকল্পনা মোতাবেক মুসা একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম জিইসি’র মোড়ে যায়। সেখানে মিতুর জন্য প্রতীক্ষা করতে থাকে। অন্যদিকে অপর কিলার গ্রুপটি রাস্তার অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে মূল অপারেশনে থাকা অপর মুসার নেতৃত্বে থাকা অপর কিলার গ্রুপটিকে কভার দিতে থাকে। মিতু সকালে ছেলেকে নিয়ে বের হওয়া মাত্রই কিলার গ্রুপের সদস্য নবী উপর্যরি ছুরিকাঘাত করে তাকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এসময় ওয়াসিম মিতুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান এসপি’র স্ত্রী মিতু।


