বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

এখনও ‘নিরাপদ নয়’ গুলশানের আর্টিসান রেস্টুরেন্ট

Gulshan-holy-Artizan-edসেনা আর পুলিশ সদস্যরা শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আবারও তাদের বেষ্টনি অতিক্রম না করার কথা জানিয়ে গেলেন সাংবাদিকদের। সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারও আগে। এর আগে সকাল থেকেই একে একে অনেকগুলো অ্যাম্বুলেন্স ঢুকেছিল গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে। সাংবাদিকরা আগেই থেকেই খবর পেয়েছিলেন ভেতরে থাকা লাশগুলো সরিয়ে আনা হবে। কঠোর সেনা পুলিশ নিরাপত্তার মধ্যে একে একে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স বেরিয়ে গেল। মাত্র কয়েক মিনিটের স্তব্ধতা। অ্যাম্বুলেন্সের তেমন কোনো সাইরেনও নেই। যে ২৬ লাশের কথা জানানো হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তার কতগুলো এসব অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়, তা কেউ নিশ্চত করেননি।

তবে গুলশান জোনের পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মশিউর রহমান অ্যাম্বুলেন্স চলে যাওয়ার একটু পরই নিশ্চিত করেন সবকটি লাশ সম্বিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হবে। তিনি জানালেন সিআইডির বিশেজ্ঞদল আর্টিসান রেস্টুরেন্টের ভেতরের পুরোটার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। বাইরের দায়িত্ব তার উপর। কোনোভাবেই সিআইডির সকল রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া রেস্টুরেন্টের ভেতর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। লাশ নিয়ে যাওয়ার পর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের সার্বিক পরিস্থিতি তার হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মশিউর রহমান জানান, এখনও হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্ট ভবন সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। কারণ হিসেবে তিনি দুটি বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আর্টিসান ভবনের ভেতর সন্ত্রাসীদের ফেলে রাখা যেকোনো বিস্ফোরক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাছাড়া বিশেষ আলামত সংরক্ষণের জন্যও রেস্টুরেন্টটি এখন গোয়েন্দারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন। রেস্টুরেন্টের ভেতর গ্রেনেড বা বাইরে কোথাও মাইন পেতে রাখার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ এর ৭৯ নম্বর সড়কে ৫নং বাসার দ্বিতীয় তলায় হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় কয়েকজন অস্ত্রধারী। রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় তারা বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটায় এবং গুলি চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়। তখনই গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন, ডিবির এসি রবিউল ইসলাম, পুলিশের দুই কনস্টেবল, একজন মাইক্রোবাসচালকসহ ২০ জনের বেশি। গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন এসি রবিউল ও ওসি সালাউদ্দিন।

আরও পড়ুন