মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, গুলশানে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশকে সহায়তারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গুলশানের রেস্তোরাঁয় ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলা চালিয়েছে কি না তা নিশ্চিত নয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে আইএস যে এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে, সে ব্যাপারে দেশটি অবগত রয়েছে। হামলার বিষয়টি জেনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ওবামার সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা লিসা মোনাকো গুলশানে হামলার বিষয়টি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এই হামলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেছেন।
এদিকে ঢাকার মার্কিন ও ভারতীয় দূতাবাসের সকল কর্মী নিরাপদে আছেন বলেএই দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কিরবি ওয়াশিংটনে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ঢাকার গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। কী উদ্দেশ্যে তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে সম্পর্কে এখনো তথ্য মেলেনি। তিনি পরিস্থিতিকে ‘এখনো পরিবর্তনশীল’ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে ভারতের বেসরকারি টিভি চ্যানেল এডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকায় তাদের দূতাবাসে সকল কর্মী নিরাপদে আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের হাই কমিশন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
ঢাকার গুলশানের রেস্টুরেন্টে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটাতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছে যৌথ বাহিনী। এই বাহিনীতে সেনা কমান্ডো, নৌ কমান্ডো, র্যাব, পুলিশ ও বিডিআর সদস্যরা রয়েছেন।
গুলশানের ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলার পর ওই বেকারিতে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
ঘটনার শুরু রাত পৌনে ৯টার দিকে; আট থেকে ১০ জন যুবক হঠাৎ সেখানে আল্লাহু আকবর বলে ঢুকে পড়ে এবং গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ শুরু করে বলে বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজার তথ্য।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। পুলিশ ওই বেকারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।


