ঢাকায় গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্রপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)।
শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে (বাংলাদেশ সময়) আইএসের কথিত সংবাদ সংস্থা আমাক নিউজের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ খবর দিয়েছে।
এর আগে রাত একটার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বন্দুকধারীরা যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য তা আপাতত মনে করা হচ্ছে। তবে তারা নির্দিষ্ট করে কোন গোষ্ঠীর সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নাজমুল আলম বলেন, ভেতরে যারা জিম্মি হয়ে আছেন এখন পর্যন্ত তাঁরা অক্ষত আছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
গুলশানের ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।
বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলার পর ওই বেকারিতে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
ঘটনার শুরু রাত পৌনে ৯টার দিকে; আট থেকে ১০ জন যুবক হঠাৎ সেখানে ঢুকে পড়ে এবং গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ শুরু করে বলে বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজার তথ্য।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। পুলিশ ওই বেকারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শেখ মারুফ হাসান বলেন, আহতদের মধ্যে বনানীর ওসি সালাউদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাত সোয়া ১টার দিকে একই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসে গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম সাংবাদিকদের জানান, সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলামেরও মৃত্যু হয়েছে।
গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “সেখানে কিছু অস্ত্রধারী প্রবেশ করেছে। এইটাই আমাদের কাছে খবর। আমরা চেষ্টা করব, যারা ভেতরে আছেন, যারা খেতে এসেছিলেন, তাদের জীবনের নিরাপত্তা অবশ্যই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বিপথগামী যারা ভেতরে আছেন, তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলতে চাই।”


