বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

গুলশানে জঙ্গিদের ৩ শর্ত: আত্মসমর্পণের আহ্বান যৌথ বাহিনীর

Gulshan-2-Attack4ঢাকার গুলশানের রেস্টুরেন্টে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটাতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছে যৌথ বাহিনী। এই বাহিনীতে সেনা কমান্ডো, নৌ কমান্ডো, র‌্যাব, পুলিশ ও বিডিআর সদস্যরা রয়েছেন। তারা হ্যান্ড মাইকে বারবার জিম্মিদের ছেড়ে দিয়ে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছেন। পুলিশ ও যৌথ বাহিনী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জবাবে জঙ্গিরা আত্মসমর্পণের তিনটি শর্ত দিয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রের খবর।

জঙ্গিদের দেওয়া শর্ত তিনটি হলো-
১. একদিন আগে ডেমরা থেকে আটক জেএমবি নেতা খালেদ সাইফুল্লাহকে মুক্তি দিতে হবে।

২. তাদেরকে নিরাপদে বের হয়ে যেতে দিতে হবে।

৩. ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তাদের এই অভিযান- স্বীকৃতি দিতে হবে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিরা বার বার রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে চিৎকার করে তাদের শর্তের কথা জানাচ্ছে।

গুলশানের ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

এর আগে রাত একটার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বন্দুকধারীরা যে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য তা আপাতত মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলার পর ওই বেকারিতে জিম্মি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

ঘটনার শুরু রাত পৌনে ৯টার দিকে; আট থেকে ১০ জন যুবক হঠাৎ সেখানে আল্লাহু আকবর বলে ঢুকে পড়ে এবং গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ শুরু করে বলে বেকারির সুপারভাইজার সুমন রেজার তথ্য।

প্রায় আধা ঘণ্টা পর সেখানে পুলিশ উপস্থিত হলে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। পুলিশ ওই বেকারিতে ঢোকার চেষ্টা করলে ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।

আরও পড়ুন