গুলশানের রেস্তোরাঁয় জিম্মি ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি শেষ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যে কোনো সময় অভিযান শুরু হতে পারে। রাত থেকেই পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সোয়াত ও নৌ-বাহিনীর কমান্ডোদের সমন্বয়ে এ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়।
শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুতিতে নিতে শুরু করেন। ভোর পাঁচটার দিকেই তাদের প্রস্তুতি শেষ হয়। পরে আশপাশে অবস্থান নেওয়া সংবাদকর্মীদের পুলিশ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় আছে তারা। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ওই এলাকায় অবস্থান করছেন।
এর আগে শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বরের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ৮ থেকে ১০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর তারা ওই রেস্তোরাঁয় থাকা লোকজনকে জিম্মি করে। জিম্মিদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৩০-৩৫ জন আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর থেকে পুরো চার কিলোমিটার এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রাখে।
আর্টিজান বেকারি নামের ওই রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার কিছুক্ষণ পর পুলিশের অগ্রগামী দলের দুই কর্মকর্তা জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় নিহত হন। আহত হন অন্তত ৪০ জন পুলিশ সদস্য। নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।
গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই হাসপাতালে মোট ৩৬ জন আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন। এখন ভর্তি আছেন ২৪ জন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জঙ্গি হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
এই ধরনের অতর্কিত হামলা চালিয়ে মানুষজনকে জিম্মি করার ঘটনা বাংলাদেশে এটাই প্রথম। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।
রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি নামের রাজধানীর গুলশানের এই রেস্তোরাঁটি বিদেশিদের কাছে জনপ্রিয়। কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থান বলে বিদেশিরা ওই রেস্তোরাঁয় নিরাপদ বোধ করতেন। এ ছাড়া খোলামেলা সবুজ লন বিদেশিদের আকৃষ্ট করত।
ওই রেস্তোরাঁয় শুক্রবার রাতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন।
জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি নামের ওই রেস্তোরাঁটির মালিক একজন বাংলাদেশি। ওই রেস্তোরাঁটি মূলত ইতালীয় পিৎজার জন্য বিখ্যাত। ওই রেস্তোরাঁয় লনটি বিদেশিদের জন্য পছন্দ হওয়ায় তারা প্রায় সেখানে খেতে যান। স্প্যানিশ ওই রেস্তোরাঁটির পাশেই পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস এবং নরডিক ক্লাব।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই রেস্তোরাঁর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শাখার কর্মকর্তা সুমন রেজা হামলার সময় রেস্তোরাঁর দোতলায় ছিলেন। তিনি বলেন, নিচতলা দিয়ে গুলি করতে করতে দুজন রেস্তোরাঁয় ঢুকে। তখন তারা ‘আল্লাহু আকবর’ বলতে থাকেন। এরপর আরও ৭-৮ জন অতর্কিত রেস্তোরাঁয় ঢুকে। তারা সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে।
গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান বেকারি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।


