বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

সূরা ফাতিহা পারলে মুক্তি, না পারলে মৃত্যু: গুলশানে জঙ্গিদের ঘোষণা

Gulshan-Attack-01কমান্ডো অভিযানে মুক্ত গুলশানের ক্যাফে থেকে উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের ১৮ ঘণ্টার ‘দুঃস্বপ্ন’ কাটছে না। শুক্রবার রাতে একদল বন্দুকধারী রাজধানীর কূটনীতিকপাড়ার হলি আর্টিজেন বেকারিতে ঢুকে বিদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে জিম্মি করে। সকালে কমান্ডো অভিযানে মুক্ত হন তাদের অনেকে।

এদের মধ্যে রয়েছেন প্রকৌশলী হাসনাত করিম। ১৩ বছর বয়সী সন্তানের জন্মদিন উদযাপন করতে স্পেনিশ এই ক্যাফেতে গিয়েছিলেন তিনি। তার সঙ্গে ছিল স্ত্রী শারমিন পারভীন এবং ৮ বছর বয়সী অন্য সন্তান।

রাতভর আটক থাকার পর সকাল ৮টার দিকে কমান্ডো অভিযানে হাসনাতের পরিবার উদ্ধার পায় বলে জানান তার মা। সন্তান, পূত্রবধূ ও নাতনীদের জন্য স্বামী এমআর করিমকে সঙ্গে নিয়ে সারারাত গুলশানে ছিলেন তিনি।

ছেলেকে পাওয়ার পর হাসনাতের মা বলেন, ভেতরে সাতজন বাংলাদেশি একজন ভারতীয়ের পাশাপাশি আরও ২০-২২জন বিদেশি ছিল। আক্রমণকারীরা ছিল ৫জন। জিম্মিকারীরা বাংলাদেশি মুসলমানদের সুরা পড়তে বলে। সুরা পড়তে পারার পর তাদেরকে রাতে খেতেও দেওয়া হয়। পারভীন হিজাব পরা থাকায় খাতির করা হয়।” তিনি বলেন, জঙ্গিদের ঘোষণা ছিল এই রকম যে, সূরা ফাতিহা পারলে মুক্তি, না পারলে মৃত্যু।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে বলে সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ জানিয়েছে। তবে এই সংগঠনটির তৎপরতার খবর বাংলাদেশ সরকার নাকচ করে আসছে।

হাসনাত ২০ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। ইংল্যান্ডে প্রকৌশল পড়াশোনার পর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এমবিএ করেন। দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আসেন তিনি।

ক্যাফেটিতে থাকা বিদেশি কয়েকজনকে রাতেই হত্যা করা হয় বলে হাসনাত তার মাকে জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ‘জিম্মি’ কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া যায়।

এলিগেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে অবনিতা কবীরের (১৮) খোঁজে। দুই বান্ধবীকে নিয়ে অবনিতা এই ক্যাফেতে আছেন বলে জানান তারা। বারবার মোবাইলে ফোন করে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও পারছেন না তারা। মোবাইলে রিং বেজে গেলেও কেউ ধরেনি।

ট্রান্সকম গ্রুপের কর্ণধার লতিফুর রহমানের নাতি ফাইয়াজও (২১) ওই ক্যাফেতে ছিলেন বলে তার স্বজনরা জানান।

আফতাব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার খানের ছেলে তাহমীদের (২২) খোঁজ জানতে ঘটনাস্থলে যান তার স্বজনরা। তারা জানান, তাহমীদ শুক্রবার কানাডা থেকে দেশে ফিরে ইফতার করে বন্ধুদের সঙ্গে ওই ক্যাফেতে যান।

জিম্মিদের মধ্যে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী ও তার কয়েকজন বান্ধবীও রয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় ওই ছাত্রীর বাবা বোরহান জানান, তাঁর মেয়ে মালিহা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। সন্ধ্যায় ৪-৫ জন বান্ধবীকে নিয়ে সে ওই রেস্টুরেন্টে যায়। ফোনে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে তাঁকে বলেছে, ‘বাবা আমরা বিপদে, আমাদের বাঁচাও!

হলি আর্টিজান বেকারির কর্মচারী ইমাম হোসেন সবুজের অপেক্ষায় ছিলেন তার বাবা আব্দুল খালেক।

শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বরের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ৮ থেকে ১০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর তারা ওই রেস্তোরাঁয় থাকা লোকজনকে জিম্মি করে। রাতেই অবশ্য জঙ্গিরা ২০ বিদেশিকে হত্যা করে।

আরও পড়ুন