বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

গুলশানে নিহত ৬ জাপানি মেট্রোরেলের কাজে এসেছিলেন

আট জাপানি এসেছিলেন মেট্রো রেলের কাজ করতে। প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার রাতে সন্ত্রাসী হামলায় মারা গেছেন তাঁদের মধ্যে ছয়জন। সবাই উঠেছিলেন বনানীর একটি হোটেলে। শুক্রবার সকালে একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়ার পর হোটেলে ফিরেছেন একজন। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন একজন। বাকি ছয়জনের জীবন গেছে জঙ্গিদের হাতে।

জানা গেছে, সাকাই ইউকো, তানাকা হিরোশি, শিমোডারি রুই, ওয়াতানা তামাকি, মুরাকি ইয়োশি নাও, কুরো সাকি নুবহিরো, হাসিমোটো হিদিকি ও ওকামুরা মাকাতো ২০ দিন আগে ঢাকা আসেন। ওঠেন বনানীর কে ব্লকের ২৪ নম্বর রোডের ৩ নম্বরে হোটেল ঢাকা গার্ডেন ইন-এ। প্রতিদিন সকালে কাজে বেরিয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসতেন তাঁরা।

মুরাকি ইয়োশি নাও শুক্রবার সকালেও সাত সহকর্মীর সঙ্গে হোটেল থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তবে শনিবার সকালে তিনি হোটেলে ফিরলেও ফেরেননি অন্যরা। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, বেরুনোর পর তাঁর শরীর খারাপ হয়ে যায়, এ কারণে তিনি তাঁর এক পরিচিতর বাসায় চলে যান। রাতে সেখানেই ছিলেন। সকালে তিনি হোটেলে ফিরে শুনেছেন, তাঁর সহকর্মীরা ফেরেননি।

হোটেল সূত্র জানায়, গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টায় আট জাপানি দুটি গাড়িতে চেপে বেরিয়ে যান। এরপর মুরাকি ছাড়া অন্যরা আর ফেরেননি। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে হোটেলের কর্মকর্তা মো. আবু তাহের রনি তাঁদের নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করতে বনানী থানায় যান। ডিউটি অফিসার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জিডি নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে আবু তাহের রনি বলেন, শুক্রবার সকালে জাপানি নাগরিকরা হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। রাতে তাঁরা হোটেলে না ফেরায় আমি থানায় জিডি করতে যাই। জাপানি নাগরিকরা হোটেলের যে কক্ষগুলোতে থাকতেন, সেগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, মুরাকি ইয়োশি ছাড়া বাকি জাপানিরা শুক্রবার সন্ধ্যার পর গুলশানের হোটেল হলি আর্টিজানে যান। রাতে অন্যদের সঙ্গে তাঁদেরও জিম্মি করে জঙ্গিরা। গুলিতে ওয়াতানা তামাকি আহত হন। বাকি ছয়জনকে জবাই করে জঙ্গিরা।

জানা গেছে, তাঁরা যে দুটি গাড়িতে করে হোটেল থেকে বেরিয়েছিলেন, এর মধ্যে একটির চালক ছিলেন রাজ্জাক। তিনি জাপানি নাগরিকদের হোটেল আর্টিজানে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি পার্ক করে বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে জঙ্গিরা তাঁকে গুলি করে। হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান তিনি। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আরও পড়ুন