বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ঈদের দিনে আনন্দের বদলে বিষাদে মুস্তাফিজের পরিবার

mustafij_Family picপবিত্র মাহে রমজানের মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর বহু প্রতীক্ষিত ঈদের সব আনন্দ মাটি হয়ে গেল কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের পরিবারে। সেখানে এখন শুধু বিষাদের ছায়া।

আনন্দঘন এই পরিবেশের মধ্যে একটি অপ্রত্যাশিত মৃত্যু শুধু ব্যক্তি মুস্তাফিজ নন, পরিবার, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী এমনকি পুরো এলাকার সব মানুষকেই ব্যথিত করে তুলেছে।

ঈদ যেনো মুখ ফিরিয়ে  নিয়েছে মুস্তাফিজের পরিবার থেকে। তার বদলে নেমেছে বুক ফাঁটা আর্তনাদ। বিষাদের কালো ছায়া।

বৃহস্পতিবার সকালে সবাই ঈদ জামাতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ গোসল করছেন। কেউ নতুন কাপড় চোপড় পরছেন। কেউ জায়নামাজ হাতে নিয়ে অপেক্ষা করছেন। বাড়ির এটা ওটা গোছগাছও চলছে।

চলছে মুস্তাফিজকে ঘিরে সবার মধ্যে এক অনাবিল আনন্দও। রান্নাঘরে চলছে ঈদে নানা ধরনের খাবার দাবার তৈরির কাজ। চলছে অতিথির জন্য অপেক্ষাও।

ঠিক এমনই এক মুহুর্ত। মুস্তাফিজের নতুন দোতলা ভবনের উপরে পানি তুলবার জন্য বসানো একটি বৈদ্যুতিক মোটরে গোলমাল দেখা দেয়। ওর চাচাতো ভাই  মোতাহার হোসেন সেটি সারাই করতে নিজেই কাজ শুরু করেন।

ক্যাবলে সংযোগ দিতে গিয়েই হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। দ্রুত  তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নলতা হাসপাতালে । কিন্তু ডাক্তারের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এক ছেলের বাবা ২৮ বছরের কৃষক মোতাহার হোসেন।

বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এ ঘটনায় মুহুর্তেই পাল্টে গেলো বাড়ির চেহারা। বিষাদে ঢাকা পড়লো মোতাহার পরিবার।

ডুকরে কেঁদে উঠলেন মুস্তাফিজ, তার ভাই মোকলেছুর, বাবা আবুল কাসেমসহ পরিবারের সব সদস্য। সব আনন্দই পরিনত হলো নিরানন্দে।

এরপর মোতাহারের নিথর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে ঈদ জামাতে মিলিত হওয়া মুসুল্লিরাও মুস্তাফিজদের বাড়ি এসে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না।

আরও পড়ুন