সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সর্বশেষ ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা করে ২২ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। ঢাকার গুলশানে হামলার পর জঙ্গি এ সংগঠনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনাকারীদের দাবি, ইউরোপের অমুসলিম দেশগুলোতে যেভাবে হামলা চালানো হয় তার তুলনায় মুসলিম রাষ্ট্রে হামলার পদ্ধতি ভিন্ন।
মুসলিম রাষ্ট্রে হামলার ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করছে আইএস। এছাড়া বাংলাদেশে এর আগে বিদেশী নাগরিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মুক্তমতের মানুষকে টার্গেট করে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। এবারের হামলার মধ্য দিয়ে নিজেদের কৌশল পাল্টে ফেলেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে প্রথম যে বিদেশী নাগরিককে হত্যা করা হয় তিনি ছিলেন ইতালিয়ান। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত ছিলেন ৫০ বছর বয়সী ওই ইতালিয়ান। পুলিশের মতে, তার হত্যাকারীকে যে কোনো একজন শ্বেতাঙ্গ বিদেশীকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এরপর অক্টোবর মাসে হত্যা করা হয় একজন জাপানি নাগরিককে। নভেম্বরে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে এক ক্যাথলিক গির্জার পাদ্রিকে হত্যা করে জঙ্গিরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইউরোপে হামলা চালানোর সময় আইএস সদস্যদের ‘যে কাউকে কিংবা প্রত্যেককে’ হত্যা করার নির্দেশ থাকে। সে তুলনায় বাংলাদেশে হামলার পদ্ধতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রিত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। গত নয় মাসে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তত ১৯ জনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএস। নিহতদের মধ্যে সবাই ছিলেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু, শিয়া, ক্যাথলিক ইত্যাদি সম্প্রদায়ের।
তীক্ষ্ণ নজর দিলে দেখা যাবে, বাংলাদেশে তুরস্কের মতো বোমা হামলা অথবা প্যারিস বা ব্রাসেলসের মতো বন্দুক হামলা করে ঢালাওভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়নি। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্য স্থির করেই নির্দিষ্ট মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এ থেকে ধারণা করা যায় ইসলামিক স্টেট পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন অংশের মানুষের ওপর প্রয়োগ করছে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি।
সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের রিটা কাৎজ বলেন, ‘মুসলিম রাষ্ট্র ও অমুসলিম রাষ্ট্রে হামলা চালানোর ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনায় আনতে হবে। আইএস ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অ্যামেরিকা ইত্যাদি পশ্চিমা রাষ্ট্রে গণহারে সাধারণ মানুষ হত্যা করে। কিন্তু তুরস্ক বা কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে তারা মুসলিম হত্যা না করার চেষ্টা করে। দেখাতে চেষ্টা করে, তারা মুসলিমদের হত্যা না করারই চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামিক স্টেট সব মুসলিম রাষ্ট্রে হামলা চালানোর ক্ষেত্রেই বেছে নিয়েছে নির্দিষ্ট লক্ষ্য যা ইউরোপের বা পশ্চিমের হামলাগুলোর পুরোপুরি বিপরীত।’
উদাহরণস্বরূপ গত মাসে জর্ডানের প্রথম বোমা হামলা, মে মাসে সুন্নি অধ্যুষিত সৌদি আরবের শিয়া মসজিদের হামলা এবং জানুয়ারি মাসে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় হামলার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ঢাকার গুলশানে হামলার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি লক্ষ্য করার মতো।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশীদের অভয় দিয়ে জানায়, তারা শুধু বিদেশীদেরই হত্যা করবে, বাংলাদেশীদের নয়।


