বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

গুলশানের সন্দেহভাজন সেই ‘হামলাকারী’ শাওন মারা গেল

Shawon Attacker of Gulshanগুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনায় ‘সন্দেহভাজন’ জাকির হোসেন শাওন মারা গেছেন। শুক্রবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে জাকির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

অবশ্য জাকিরের বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, দুপুর ১২টার পরপর তাঁর ছেলে মারা গেছেন। অবশ্য দুপুরের দিকে জাকিরের ভাবি ফাতেমা বেগমও দাবি করেন, তিনি নিশ্চিত তাঁর দেবর জাকির মারা গেছেন। তাঁদের জাকিরের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

যদিও তার অবস্থার অবনতি হলে সকালে তাকে আইসিইউয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২ বছর বয়সী এই তরুণকে ক্যাজুয়ালটি থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয় জানিয়ে তার মা মাসুদা বেগম শুক্রবার সকালে বলেছিলেন বলেন, “বাবা (শাওন) খুব অসুস্থ্। আজ সকালে নাকে-মুখে রক্ত বের হচ্ছিল, কাঁপুনি দিচ্ছিল।”

মাসুদা তখন জানান, শাওনের হাতে এখন হাতকড়া না থাকলেও আইসিইউর বাহিরে সারাক্ষণ পুলিশ প্রহরা রয়েছে। ছেলে বাঁচবে কি-না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন এই মা। তিনি বলেন, “আমি পিঠা বানায়ে বিক্রি করি। শাওন আমারে মাসে চার হাজার টাকা দিত। ওর ছোট তিনজন ভাই আছে। ওদের বাবা আব্দুস সাত্তার  আগে রিকশা চালাইত, এখন অক্ষম।”

এর পর বেলা তিনটার দিকে খবর পাওয়া যায় শাওন মারা গেছে।

পরিবারের ভাষ্য, শাওন প্রায় একবছর ধরে হলি আর্টিজান বেকারিতে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন।

একদল অস্ত্রধারী তরুণ গত ১ জুলাই ওই ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি ২০ জনকে হত্যা করে। পরদিন কমান্ডো অভিযানে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্র বাহিনী। সে সময় ছয় সন্দেহভাজন অস্ত্রধারী নিহত হয়।

ওই অভিযানের আগেই ঘটনাস্থলের কাছ থেকে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় শাওনকে আটক করে। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে পুলিশ পাহারায় ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।

৪ জুলাই জাকিরের মা-বাবা ছেলেকে খুঁজতে আর্টিজানের সামনে ছবি নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, হামলার পর থেকে জাকিরকে তাঁরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁর (জাকির) খোঁজে অভিভাবকেরা কয়েকবার গুলশান থানার পুলিশের কাছে গেছেন। পুলিশ ইউনাইটেড হাসপাতালে জাকিরকে খোঁজার কথা বলে। সেখানে গিয়েও তাঁরা ছেলেকে পাননি। ৩ জুলাই রাত দেড়টা পর্যন্ত তাঁরা গুলশান থানায় বসে ছিলেন। কিন্তু পুলিশ জাকিরের কোনো খোঁজ দিতে পারেনি।

মা-বাবার কাছে থাকা জাকিরের ছবি দেখে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকেরা রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ে যাওয়ার ছবিটি দেখান। এ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইনপত্রিকায় ছেলের খোঁজে আর্টিজানের সামনে মা-বাবা শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। পরে ওই দিন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক জানান, হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই জঙ্গি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তিনি কারও নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি।

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাকিরকে ৩ জুলাই রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র বলেছে, তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আনা হয়। তবে জাকিরের বাবা আব্দুস সাত্তার ও মাহমুদা বেগম দাবি করেছেন, তাঁদের ছেলে হলি আর্টিজানে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

রেস্তোরাঁর হিসাবরক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাজেদুর রহমান ৪ জুলাই বলেন, জাকিরকে তাঁরা হাসপাতালে শনাক্ত করেছেন। তাঁকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা গত শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। ইতালির নাগরিক নিহত হন নয়জন, জাপানি সাতজন। নিহত ব্যক্তিদের একজন ভারতীয়। শুক্রবার রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে মারা যান পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আর শনিবার সকালে অভিযানে মারা যায় ছয় সন্ত্রাসী। গ্রেপ্তার হয় একজন। অভিযানে একজন জাপানি, দুজন শ্রীলঙ্কান ও ১০ জন বাংলাদেশিসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন