কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ বলেছেন, তাদের (হামলাকারী) মনের মধ্যে ইসলামের অপব্যাখ্যা গেঁথে গেছে। বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের ফেরাতে হবে।
শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ফরিদউদ্দিন মাসউদ এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিপথে যাওয়া ঠেকাতে সবার দায়িত্ব আছে। কিন্তু আলেমদের দায়িত্ব বেশি। কারণ এখানে ইসলামের অপব্যাখ্যার বিষয় আছে। এই আত্মঘাতীদের কাছে পৌঁছে তাদের বোঝাতে হবে, তারা যে কাজ করছে, তা করলে আদৌ বেহেশত পাওয়া যাবে কি না। তাদের বোঝাতে হবে ইসলাম মানে হচ্ছে ভালোবাসা।’
সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতের এই ইমাম বলেন, হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ, শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় অংশ নেওয়া হামলাকারীরা ধর্মের নামে অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামের বিকৃত ব্যবহার করছে। এরা যে ধর্মের অপব্যবহার করছে, এটা পরিষ্কার। এই কাজ তারা ঘোষণা দিয়ে করছে। এখানে লুকোচুরির বিষয় নেই। ধর্মের এই অপব্যাখ্যা তাদের মনের মধ্য গেঁথে গেছে। তিনি বলেন, ‘ওদের (হামলাকারীদের) কী শাস্তি দেবেন, মৃত্যুদণ্ড? মৃত্যুদণ্ড দিলে তো তারা খুশি। কারণ সে মনে করবে, আমার বেহেশতে যাওয়ার পথ সহজ করে দিল। তাদের আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে ফেরাতে হবে।’
ফরিদউদ্দিন মাসউদ বলেন, ‘হামলাকারীদের এখন মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আতঙ্কিত করা। কারণ আতঙ্কিত করতে পারলে প্রতিরোধ শক্তি কমে যায়। তাই তারা চাচ্ছে আতঙ্ক ছাড়াতে। আসলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখানে জামায়াত-শিবির আইএসের প্রক্সি দিচ্ছে। যেখানে জামায়াত-শিবির আছে সেখানে আইএসের প্রয়োজন পড়ে না। এদের প্রতিরোধ করতে হলে আলেমদের সক্রিয় করতে হবে।’
গুলশানে রেস্তোরাঁয় ও শোলাকিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে ১১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ১৪ দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ১৪ দল আজ এই মতবিনিময় সভা করে। সভায় ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘ওই দিন জাতীয় পতাকা হাতে শহীদ মিনারে লক্ষাধিক মানুষের প্রতিরোধ সমাবেশ করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিন, বাংলার মানুষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদীদের সমর্থন করে না।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি করেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘এই যে গুলশান-উত্তরায় কোনো সিনেমা হল নেই, একটা থিয়েটার নেই। এটা কেন? এটাও আপনাদের ভাবতে হবে? আর কারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে, এটা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের চুপ করে গেলে চলবে না। তাহলে এই ষড়যন্ত্র আরও বেড়ে যাবে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘জঙ্গিবাদের চারা রোপণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এরশাদ সাহেব সেটাকে নার্সিং করেছেন। আর খালেদা জিয়া তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছেন। তাই বর্তমান এই সংকটও মূলত খালেদা জিয়া এবং তাঁর সঙ্গে যারা আছে, তাদের নিয়েই।’
শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, একাত্তরের খুনিরাও এভাবেই বর্বর হামলা চালিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এবার খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত মরণকামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইনজীবী বাসেত মজুমদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা নিম চন্দ্র ভৌমিক, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, চিত্রনায়ক ফারুক প্রমুখ বক্তব্য দেন।


