ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৭৭ জন তরুণ-যুবক দীর্ঘদিন ধরে ‘নিখোঁজ’ আছেন বলে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরা জঙ্গিবাদে দীক্ষা নিয়েছে বলে আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে তাদের নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
ওই তরুণদের বেশির ভাগই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তাদের বেশিরভাগই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করে অভিজাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছিলেন। এরই মধ্যে পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে ১০ জনের।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রের বরাত দিয়ে রবিবার দৈনিক কালের কণ্ঠের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত তিন বছরে অন্তত ৭৭ জন তরুণ-যুবক নিখোঁজ হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জঙ্গি তত্পরতায় লিপ্ত হতে পারে। তাদের নিয়ে উত্কণ্ঠায় আছে পরিবার। ওই তরুণদের সন্ধান পেতে এরই মধ্যে নানা তত্পরতা শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিখোঁজ ৭৭ জনের মধ্যে ১০ জনের পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রোফাইল তৈরি করেছে পুলিশ। ওই ১০ জনের পরিবারও পুলিশ-র্যা বের সহায়তা চেয়েছে। তাদের উদ্ধার করতে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে।
যাদের প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে তারা হলেন বাড্ডার জুনায়েদ খান (পাসপোর্ট নম্বর এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮), তেজগাঁওয়ের বাসারুজ্জামান (পাসপোর্ট নম্বর এ এল ৭৩৮৪৯৮৭), গুলশানের আশরাফ মোহাম্মদ ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর এ এফ ৫২৫৮৪৯৬২৫), ধানমণ্ডির জুবায়েদুর রহিম (পাসপোর্ট নম্বর ই১০৪৭৭১৯), পুরান ঢাকার ইব্রাহিম হাসান খান (পাসপোর্ট নম্বর এ এফ ৭৪৯৩৩৭৮); সিলেটের তামিম আহম্মেদ চৌধুরী (পাসপোর্ট নম্বর এল ০৬৩৩৪৭৮), মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি (পাসপোর্ট নম্বর টি কে ৪০৯৯৮৬০), জুল্লন শিকদার (পাসপোর্ট নম্বর বি ই ০৯৪৯১৭২); চাঁপাইনবাবগঞ্জের নজিবুল্লাহ আনসারী এবং লক্ষ্মীপুরের এ টি এম তাজউদ্দিন (পাসপোর্ট নম্বর এফ ০৫৮৫৫৬৮)।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নিখোঁজ সবাইকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে যারা নিখোজ হয়েছে তাদের বেশির ভাগই সচ্ছল পরিবারের সন্তান বলে আমরা জানতে পেরেছি। নিখোঁজ হওয়ার পর অনেকের পরিবার থানায় জিডি করতে আসেনি।’
তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের ঘটনায় আটক আবু মোকাদ্দেল ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে সোহান আড়াই বছর আগে থেকে নিখোঁজ ছিল বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। এরই মধ্যে তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে খোঁজ নেওয়া হয়েছে।’
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, যেসব তরুণ নিখোঁজ হয়ে আছে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। গুলশান ও কিশোরগঞ্জে হামলায় যারা জড়িত তারা সচ্ছল পরিবারের সন্তান। নিহত জঙ্গিরা জেএমবির সঙ্গে জড়িত।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পরিবারের কোনো সদস্য নিখোঁজ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান। সমাজের প্রত্যেক মা-বাবার উচিত সন্তানরা কোথায় যায়, কী করে তা সার্বক্ষণিক নজরদারি করা।’
র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘নিখোঁজ যুবকদের খোঁজে বের করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পরিবারের পক্ষ থেকেও সহায়তা করতে হবে। যেসব পরিবারের এখনো সন্তান নিখোঁজ আছে তা আমাদের জানান।’


