সন্ত্রাস দমনে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সফররত মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল রোববার এ প্রস্তাব দেন।
দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন সহকারী মন্ত্রী নিশা দেশাই।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, গুলশানের রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। সন্ত্রাস দমনে দেশটির পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞ সহায়তার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিশা দেশাই যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
তবে এই সহায়তা কীভাবে তারা দেবে বা বাংলাদেশ তা কীভাবে নেবে সে ব্যাপারে আগামীকাল সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিশার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র সচিব।
জাপান ও ইতালির পক্ষ থেকে গুলশান হামলার যৌথ তদন্ত করার প্রস্তাব বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শহীদুল হক বলেন, যে কোনো দেশই সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিতে পারে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হবে।
গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ১ জুলাইয়ের জঙ্গি হামলা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার জন্য নিশা দেশাই রোববার সকালে ঢাকায় এসেছেন।
এদিকে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুটি বৈঠকে নিশা দেশাই বলেছেন, ‘আমাদের এই দুটি দেশকেই সন্ত্রাসবাদের বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় ভুক্তভোগীদের জন্য সমবেদনা জানান নিশা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশী অংশীদারদের সঙ্গে আমরা শোক ভাগ করে নিয়েছি। বাংলাদেশের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার সব সময়ের মতোই অটুট থাকবে।’
সাক্ষাতের সময় নিশা দেশাইয়ের সঙ্গে ছিলেন- বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানপ্রিত আনন্দ।
এদিকে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন নিশা।
বিকাল ৩টায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। সকালে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক হওয়ার কথা আছে।
গত মে মাসের পর এটি তার দ্বিতীয় ঢাকা সফর। ওই সময় রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় ইউএসএআইডি’র কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি ঢাকা সফর করেন।
এর আগে অবশ্য গুলশানের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন।
৩ জুলাই সন্ধ্যায় জন কেরি ফোনে বলেন, সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা ও সহানুভূতি জানান প্রেসিডেন্ট ওবামা।


