গুলশানের রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পাঁচ জঙ্গির মধ্যে একজন নিবরাস ইসলাম মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাঁর ব্যাপারে দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে। নিবরাস ইসলাম মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাতেই অবস্থান করেছিলেন।
সোমবার মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তারা জেনেছে ঢাকার রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত একজন বা একাধিক অপরাধী বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই গুরুতর ব্যাপারটি বিবেচনায় নিয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় তারা তদন্ত করবে।
মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র সুশীলা নাইর এক বিবৃতিতে বলেন, ওই সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জড়িত থাকার ব্যাপারে সরকারিভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। শুধু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা এ ব্যাপারে তথ্য পাচ্ছি। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের এক বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশকে তদন্তের ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।
হঠাৎই বদলে যান নিবরাস:
নিবরাস ইসলাম ২০১৪ সাল পর্যন্তও ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া সাধারণ ছাত্রের মতোই। হাসতে ও মজা করতে ভালোবাসতেন নিবরাস। ফুটবলপাগল ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বদলে যান তিনি। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর ভোর ৩টা ১৯ মিনিটে টুইট বার্তায় লেখেন, ‘চিরবিদায়’। টুইটারে আইএসের এক প্রচারকসহ জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল নিবরাসের।
মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিবরাসের এক সহপাঠী বলেন, নিবরাস ছবি তুলতে পছন্দ করতেন। বিশেষ করে নিজের ছবি। রেস্তোরাঁয় গেলেই বন্ধুদের সঙ্গে সেলফি তোলা ছিল নিবরাসের শখ। ওই সহপাঠী আরও জানান, বলিউড তারকাদের দারুণ ভক্ত ছিলেন নিবরাস। ছিলেন লিভারপুল ফুটবল ক্লাবের সমর্থক। ২০১৫ সালের দিকে নিবরাস মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যান। বন্ধুদের বলেছিলেন, পরিবার ও বাড়ির কাছে থেকে তিনি পড়াশোনা করতে চান।
নিবরাস ১০টি টুইটার অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করতেন। তার মধ্যে একটি ছিল সামিউইটনেস। সেটি পরিচালনা করতেন আইএসের প্রচারক মেহেদি মাসরুর বিশ্বাস। গত বছর ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে ডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ৩ ফেব্রুয়ারি জঙ্গি সন্দেহে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে প্রথমে নিবরাস ইসলাম ও রোহান ইমতিয়াজের নাম পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় নিবরাসকেও আসামি করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তাঁরা বড় ধরনের নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে নিবরাসের খোঁজে পুলিশ তাঁর বাসায় গেলে পরিবার থেকে জানানো হয়, তিনি নিখোঁজ।


