পরিবেশবাদী ও নাগরিক প্রতিনিধিদের বিরোধিতার মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলীয় সুন্দরবন ঘেঁষা রামপাল এলাকায় ১৩২০ মেগাওয়াটের ‘মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নির্মাণে ভারত হেভি ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের (বিএইচইএল) সঙ্গে চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)। মঙ্গলবার রাতে রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ চুক্তি সই হয়।
চুক্তি অনুয়ায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এই বিদ্যুত কেন্দ্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) সমান অংশীদারিত্ব রয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হলে তা হবে বিদেশে ভারতের কোনও কোম্পানি নির্মিত সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর আগে রুয়ান্ডা ও শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে ভারত।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা (১৫০ কোটি মার্কিন ডলার)। এর ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে উদ্যোক্তা কোম্পানি। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ ঋণ নেওয়া হবে। ১৩২০ মেগাওয়াট এ তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতার পর ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল) ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই কাজ পেল। ভারতের এক্সিম ব্যাংক ১ শতাংশের বেশি কিছু সুদে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য অর্থায়ন করছে বলে জানা গেছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ইলাহি চৌধুরী, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম, ভারতের বিদুৎ সচিব প্রদীপ কুমার পূজারী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ভারতের এনটিপিসি চেয়ারম্যান গুবদীপ সিংহ, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল হাসান মিঞা, বিএইচএল প্রতিনিধি প্রেম পাল যাদভ এবং বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে ২০১০ সালে পিডিবি ও এনটিপিসি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। আমদানিকৃত কয়লানির্ভর কেন্দ্রটিতে ব্যবহারের জন্য কয়লার উৎস, কয়লা আনার প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিশ্চিত হয়নি। নির্মাণ শেষে কেন্দ্রটির জন্য প্রতিদিন কয়লা লাগবে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন।
কেন্দ্রটির নির্মাণস্থল সুন্দরবনের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তসীমা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে। এটি নির্মাণের সময় ও পরবর্তীতে পরিবেশ দূষণের ফলে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবেশবিদরা ও বিভিন্ন সংগঠন।


