শান্তির ধর্ম ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ও বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘শোলাকিয়ায় ঈদের জামায়াতের আগে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়। গুলশানের হামলাতেও ২ পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন ওই হামলায় মারা গেছেন। এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটা ঘৃণ অপরাধ।’
বুধবার দুপুরে গণভবনে জঙ্গিবাদবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে জেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। গতকালও তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি ঠিক জানিনা কেন ইসলাম ধর্মকে হেয় করে এ হামলা চালানো হচ্ছে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা পাপ। জান্নাতে তো তাদের ঠাঁই হবে না। যারা এ ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা নামি দামি বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুল কলেজের ছাত্র। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের কোনো চাহিদা তো অপূরণ থাকে না। তাহলে এসব কাণ্ড কেন।’
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান দেবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যখন উজ্জল তখন এ ধরেনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনপ্রতিনিধিসহ নিজ নিজ পেশা থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।’
তিনি বলেন, ‘এখন মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত হয়েছে। যখন মানুষের কল্যাণ হচ্ছে তখন এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এটা হতে দেওয়া হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা, উপজেলা পর্যায়ে জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটির কার্যক্রম এগিয়ে আনতে হবে। যারা বিপথে নিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। বিশেষ করে সন্তানদের বিষয়ে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে এমন কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আসুন সকলে মিলে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলি।’


