বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

জঙ্গি নিবরাস ‘সাঈদ’ নাম নিয়ে ঝিনাইদহে আত্মগোপনে ছিল


NEWSWORLDBD.COM - July 14, 2016

Nibras Islamঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে চিহ্নিত হামলাকারী নিবরাস ইসলামের লাশ উদ্ধারের পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে এই তরুণ গত ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

এই সময়কালে নিবরাস ঝিনাইদহের একটি মেসে ‘সাঈদ’ পরিচয় দিয়ে ছিলেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

ঝিনাইদহ সদরের সোনালীপাড়ার ওই মেসে নিবরাসকে দেখার কথা স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, গুলশানে হামলাকারীদের ছবি গণমাধ্যমে আসার পর তারা একজনকে নিবরাস বলে চিনতে পারেন, তবে তারা জানতেন তার নাম সাঈদ।

নিবরাসের পরিবারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলালে দেখা যায়, ঘর ছাড়ার পর তার অবস্থান ছিল ঝিনাইদহ শহরের হামদহ সোনালী পাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কওছর আলীর মালিকানাধীন বাড়ির মেসে।

ওই মেসের চারটি কক্ষে মোট আটজন থাকতেন। তাদের মধ্যে সাঈদ বা নিবরাজও একজন। ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে তারা মেস ছেড়ে যায়, তারপর আর ফেরেনি। ঈদের ছয় দিন আগে গুলশানে হামলা হয়।

ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, “চার মাস আগে সে (নিবরাজ) এই ছাত্রবাসে (মেসে) উঠেছিল। পাশের মাঠে নিয়মিতই আমাদের সঙ্গে ফুটবল খেলত, ভালো ইংরেজি বলত সে। তখন আমরা জানতাম তার নাম সাঈদ। বলেছিল যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এখানে উঠেছে। এখন ছবি দেখে বুঝলাম ওই নিবরাজই সাঈদ।”

নিবরাস যে মেসে ছিলেন, তার মালিক কওছর আলীর স্ত্রী বিলকিস নাহার বলেন, ঈদের ছুটিতে ওই মেসের আট ছাত্র চলে গিয়েছিল। তারপর আর ফেরেনি। চার মাস আগে সাঈদ (নিবরাস)সহ দুজনকে পাশের মসজিদের ইমাম মো. রোকনুজ্জামান মেসে তুলেছিলেন বলে জানান বিলকিস। বিলকিস বলেন, “ইমাম রোকনুজ্জামান  দুজনকে মেসে তুলেছিলেন। তারা কী করত, কোথা থেকে এসেছিল, আমরা কিছু জানতাম না।”

বাড়ির মালিক কওছর আলী ও ইমাম রোকনুজ্জামানের খোঁজ চাইলে বিলকিস বলেন, ঈদের আগের রাতে পুলিশ পরিচয় দিয়ে একদল লোক এসে বাড়ি ও মেস তল্লাশি করে। তারা যাওয়ার সময় কওছার ও তার দুই ছেলে বেনসার আলী ও বেনজির আলী, ইমাম রোকনুজ্জামান এবং সাব্বির নামে স্থানীয় এক হাফেজকে ধরে নিয়ে যায়।

তবে ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আলতাফ হোসেন বলেন, তারা এদের কাউকে আটকের বিষয়ে কিছু জানেন না।

ইমাম রোকনুজ্জামান গত বছর থেকে স্থানীয় ওই মসজিদে ইমামতি করে আসছেন। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাইড়া গ্রামের আইনুদ্দিনের ছেলে।

ওই মসজিদের সভাপতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি শরাফত হোসেন জোয়ার্দ্দার। তিনি বলেন, “২০১৫ সালে মসজিদের ইমাম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। চারজন আবেদন করলে আমরা পরীক্ষা নিই। রোকনুজ্জামান পাস করলে তাকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।”

গুলশানে হামলাকারী অন্তত তিনজন বেশ কিছু দিন ধরে ঘরছাড়া ছিলেন বলে তাদের পরিবারগুলো পরে জানায়। এর ছয় দিনের মধ্যে শোলাকিয়ায় হামলাকারী তরুণও নিখোঁজ ছিলেন বলে তথ্য বেরিয়ে আসে।

গত ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলার পর নিবরাসের ঢাকায় থাকা পরিবারকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে খবর আসে, তিনি ৩ ফেব্রুয়ারি একটি চিরকূট লিখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর জঙ্গি সংগঠন আইএসের তরফে পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করা হয়। পরদিন কমান্ডো অভিযানে নিহতদের মধ্যে নিবরাসকেও পাওয়া যায়।

নিবরাসের মতো এই তরুণরা হামলার প্রশিক্ষণ কোথায় নিয়েছিলেন, কাদের সংস্পর্শে ছিলেন- তা তাদের নিখোঁজ থাকার সময়কার অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন।

ঢাকার ধনী পরিবারের সন্তান নিবরাস নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পর পড়তে যান মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে থেকে গত বছরের শেষ দিখে দেশে ফিরে আসার কয়েকমাস পরই ঘর ছেড়ে যান। শুরু থেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ে আসা নিবরাসের ফুটবলে আগ্রহের বিষয়টি তার ফেইসবুক পাতায়ও উঠে আসে।

নিবরাসসহ কয়েকজনের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর আরও ১০ জন নিখোঁজ যুবকের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এদের জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার সন্দেহও করছেন গোয়েন্দারা।

এই তালিকা প্রকাশের পর আরও কিছু তরুণ ও যুবকের  নিখোঁজ থাকার খবরও তাদের পরিবারগুলো দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ সদর থানায় এমন এক তরুণের সন্ধান চেয়ে সাধারণ ডায়েরি হয়েছে।

১৭ বছর বয়সী হাসান আলী নামে দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মা সুন্দরী বেগম বলছেন, এক বছর ধরে তার ছেলে নিখোঁজ। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিখোঁজদের বিষয়ে জানাতে বলায় তিনি জিডি করেছেন।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: Anwarul Karim Raju

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.