প্রবাসীর ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে এক গৃহবধূকে (২২)তুলে রাতভর গণধর্ষণ ও মুক্তিপন আদায়ের ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের ১০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে। ভূক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে এ মামলা করেন।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
আসামিরা হলো, উপজেলার রামপুর গ্রামের ফাহাদ হোসেন (২১), হৃদয় (১৮), গিয়াস উদ্দিন (২০), মো. পারভেজ (২২), তিতার কান্দি গ্রামের আদনান (১৮), রিয়াত হোসেন (২০), শাহজাহান (২৩), পারভেজ (১৯), রোকন উদ্দিন (২১) ও জহির (২০)। আসামিরা সবাই চরশাহী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় ও স্থানীয় সূত্র।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূ তার ভাই রকি ও বন্ধু আবদুর রাজ্জাককে নিয়ে তিতারকান্দি গ্রামের ওমান প্রবাসী খালুর বাড়িতে আসেন। রাতে তারা খাবার খেয়ে খালার বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১টার দিকে একই গ্রামের ফাহাদের নেতৃত্বে আদনান, রোকন, পিয়াস ও হৃদয়সহ ৮ থেকে ১০জন ওই ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে। এসময় তারা আলমীরার তালা ভেঙ্গে নগদ ২৪ হাজার ৪০০ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন সেট লুটে নেয়।
এ সময় বাঁধা দিতে গেলে ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ তার ভাই রকি ও বন্ধু আবদুর রাজ্জাককে অস্ত্রের মুখে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে হৃদয়ের বাড়িতে রকি ও আবদুর রাজ্জাককে বেদম মারধর করে আটকে রেখে, বাড়ির ছাদে নিয়ে ওই গৃহবধূকে রাতভর পালাক্রমে র্ধষণ করে তারা। পরদিন বুধবার তার খালার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে সকাল ১০টার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সন্ধ্যায় আদনান নামে এক যুবলীগকর্মীকে আটক করে।
সদর হাসপাতালের আরএমও আনোয়ার হোসেন জানান, কয়েকজন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণের বিষয়টি ভুক্তভোগী তাকে জানিয়েছেন। তবে তিনি ডাক্তারী পরীক্ষা (শারিরিক ও গোপন অঙ্গ) করাতে রাজি হননি। ভিকটিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
চরশাহী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ঘটনার সত্যতা পেলে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি তদন্ত চলছে।


