স্ত্রীকে দশদিন অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশের এক কনস্টেবল। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর ওই গৃহবধূর চুল কেটে নেয়া হয়েছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ডোমরগাছা গ্রামের ওই গৃহবধূর নাম জাকিয়া সুলতানা হাসি (২৮)। আর নির্যাতনকারী হলেন, তার স্বামী কনস্টেবল আসাদ আলম প্লাবন। তিনি বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত। পরশি আকতার (৫) নামে তাদের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
বুধবার গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালের বেডে শুয়ে জাকিয়া সুলতানা হাসি সাংবাদিকদের কাছে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন। তিনি প্লাবনের পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন।
নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন হাসি।
তিনি জানান, সম্প্রতি আসাদ আলম প্লাবন তার সম্মতি না নিয়েই দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় নাহিদ নামে এক মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই আসাদ আলম প্রায়ই হাসির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পাশাপাশি ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
হাসি জানান, দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেয়া এবং যৌতুকের দাবিতে গত ৩ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত একটানা দশদিন হাসিকে একটি অন্ধকার ঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হয়। তাকে ঠিকমতো খাবারও দেয়া হয়নি। প্লাবন পুলিশ সদস্য হওয়ার কারণে প্রতিবেশীরা এ নিয়ে তেমন কিছু বলার সাহস পেত না। ‘বন্দি’ অবস্থায় প্লাবনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং তার মাথার চুল কেটে নেয়।
হাসির মা জুলেখা বেগম জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার তারা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় হাসিকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করান।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থানা থেকে চলে আসতে বাধ্য করে।
জানতে চাইলে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। নির্যাতনের অভিযোগে কেউ মামলা করতে এলে তা গ্রহণ করা হবে।
https://youtu.be/VyX67EWQjCQ


