শুক্রবারের জুমা নামাজের খুৎবা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৈরি করা নির্ধারিত এই খুৎবাটি দেশের সব মসজিদে অনুকরণ ও অনুসরণ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর কোথাও জুমার খুতবায় উগ্রবাদের প্রচার হয় কি না, তা নজরে রাখার কথা জানানোর পর এবার জাতীয় মসজিদে পাঠের জন্য খুতবা ঠিক করে দিয়ে এই অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় তিন লক্ষ মসজিদ আছে। সব মসজিদের খতিব এবং ইমামদের চিন্তা এবং দৃষ্টিভঙ্গি একরকম নয়। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
ইসলামের নামে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালিয়ে জঙ্গিবাদীরা হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিভ্রান্তিকর প্রচারে তরুণ-যুবকরা প্ররোচিত হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় উঠে এসেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে দুই পৃষ্ঠার জুমার খুৎবার বাংলা বয়ানগুলো হলো:
“হে মসুলমানগণ! একজন মানুষ সে যাই হোক না কেন- তার জন্য পৃথিবীকে নিরাপদ জীবন ধারণের অধিকার স্বীকৃত। সে মুমিন হোক কিংবা কাফির হোক কিংবা ফাসেক হোক। অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে খুন করা কিংবা তার সম্পদ গ্রাস করা কিংবা তাকে অপমানিত করা হারাম। কুরআন বলেছে, আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করো না এবং আরও এরশাদ হচ্ছে যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করল সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকেই হত্যা করল।”
এতে আরও বলা হয়েছে, “মহানবী বলেন, সর্বোচ্চ কবিরা গোনাহ হল মানুষ খুন করা। এখানে মুসলিম অমুসলিম পার্থক্য করা হয়নি।”
খুতবায় অভিভাবকদের সচেতন করে বলা হয়েছে, “আপনারা আপনাদের সন্তান-সন্ততির বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগী ও সাবধান থাকুন। তাদেরকে সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা দিন। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকুন যে আপনার সন্তানকে আপনার চোখ ফাঁকি দিয়ে যেন সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিতে না পারে। সন্ত্রাসীরা এই অবুঝ সরল কিশোরদেরকে পরিবারের নিয়ন্ত্রণ থেকে ভাগিয়ে নিয়ে নানা অপকর্মের প্রশিক্ষণ দিয়ে জঙ্গি বানাতে চেষ্টা করে থাকে।”
খুতবায় আরও বলা হয়েছে, “সবশেষে আমরা আহ্বান করি আমাদের সন্তানদেরকে, আমাদের যুবকদেরকে সকল সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে বেঁচে থাকতে, হে আল্লাহ! আমাদের দেশ বাংলাদেশ। এ দেশকে আপনি সন্ত্রাস ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন এবং একে শান্তি ও সমৃদ্ধির দেশে পরিণত করুন।”


