পুরান ঢাকার হোসাইনী দালানে বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগপত্র তৈরি হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়ায় তা আদালতে উঠছে না নয় মাস পেরিয়ে গেল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহা. শফিউদ্দিন শেখ বলেন, “সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এই মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই অভিযোগপত্র শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”
“নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১০ সদস্যকে আসামি করে তিনি অভিযোগপত্র তৈরি করেছেন।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এস আই রাকিবুল আলম বলেন, এই মামলার অভিযোগপত্র এখনও আদালতে জমা পড়েনি।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া আদালতে জমা দেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ২১ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দাখিল করা একটি আবেদনে বলেন, হোসাইনী দালানে বোমা হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩) এর ৬(২), এর (ক), (খ), (গ), (ঘ) ও (ঙ) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তা আমলে নেওয়ার অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
“আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপ্রাপ্তি সাপেক্ষে মামলার ডকেট পাঠানো হবে।”
সংশ্লিষ্ট আদালতের পুলিশ সদস্য পরেশ চন্দ্র জানান, হোসাইনী দালানে বোমা হামলার অভিযোগপত্রে জেএমবির যে ১০ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৪ জন জামিনে রয়েছেন। মামলার এজাহারে এদের নাম ছিল না; গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তারাও এদের নাম বলেনি।
এই চার জন হলেন- নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া মধ্য পাড়ার ওমর ফারুক মানিক (২৮), একই উপজেলার হাফেজ আহসান উল্লাহ মাসুদ (২৯),গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বড়ইতলীর শাহজালাল মিয়া (৩৮) ও গাইবন্ধার সাঘাটা উপজেলার চান মিয়া (৩২)।
বাকিরা আসামিরা হলেন- ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম ইব্রাহিমনগর বালুরমাঠের মো. আরমান ওরফে মনির (২৭) ও কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুরের জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মুসায়াব (২২), দিনাজপুরের সদর উপজেলার ঘাসিপাড়ার ডাবগাছ মসজিদ এলাকার আবু সাঈদ রাসেল ওরফে সোলায়মান ওরফে সালমান ওরফে সায়মন (২২), একই জেলার রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব ওরফে সুমন (২২),
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া দক্ষিণপাড়ার কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক (২৮) ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কেশরতার মাসুদ রানা মাসুদ ওরফে সুমন (২৪)।
এদের মধ্যে আরমান, জাহিদ ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে আশুরা উপলক্ষে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসাইনী দালানের ইমামবাড়ায় বোমা হামলায় এতে দুজন নিহত হন এবং শতাধিক আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত দুটি বোমা (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস- আইইডি) উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চকবাজার থানায় মামলা করা হলেও তদন্তের দায়িত্ব পায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আলবানি ওরফে শাহাদত ওরফে মাহফুজ ওরফে হোজ্জা, আবদুল্লাহ বাকি ওরফে আলাউদ্দিন ওরফে নোমান, সাঈদ ওরফে হিরণ ওরফে কামাল। হামলার আগে ১০ অক্টোবর তারা বৈঠক করেছিলেন।
হামলার আগে জাহিদ ও কবির ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন এবং হামলার সময় তাদের সঙ্গে আরমানও উপস্থিত ছিলেন। আরমান ও রুবেল হামলার বেশ আগে কামরাঙ্গীরচরে বাসা ভাড়া নেন।
চান মিয়া, ওমর ফারুক, আহসানউল্লাহ, শাহজালাল ও আবু সাঈদ ভিডিও ধারণসহ বোমা হামলায় উদ্বুদ্ধ করেন ও সহায়তা করেন। শুধু আরমান হামলায় অংশ নিয়ে হোসাইনী দালানে পরপর পাঁচটি বোমা ছুড়েন।
ওই হামলায় মাসুদ রানার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও আগের দিন গাবতলীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে এএসআই ইব্রাহীম মোল্লাকে হত্যা করে ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার হন।


