রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের নতুন বহুতল ভবন নির্মাণে পুরনো ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।
রোববার গুলিস্তানের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।
তিনি বলেন, বহুতল ও দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত দলীয় কার্যালয় নির্মাণের লক্ষ্যেই ভবনটি ভাঙা হচ্ছে। পুরনো এ ভবন ভেঙে নতুন ১০ তলা ভবন করা হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমোদন দেওয়া ‘থ্রিডি নকশা’ অনুসারে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবন নির্মাণের মূল দায়িত্বে আছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেড় বছরে কাজ শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন। পুরো ভবনই ওয়াইফাইয়ের আওতায় থাকবে। ভবনে থাকবে কনফারেন্স হল, সেমিনার রুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, ক্যান্টিন, সাংবাদিক লাউঞ্জ এবং ডরমিটরিও।
মোশারফ হোসেন বলেন, ছয় থেকে সাত তলা পর্যন্ত থাকবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যালয়।
নতুন ভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য পৃথক কক্ষ এবং সেই কক্ষের সঙ্গে বারান্দাও থাকবে বলে জানান তিনি।
মোশারফ হোসেন জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরনো ভবনের সব অফিস আশপাশের ‘সুবিধামতো স্থানে’ সরে গেছে। শনিবার সব অফিসই খালি হয়ে যায়। রোববার সকালে ভবনটি ভাঙা শুরু হয়েছে।
১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে আট থেকে নয়বার। পুরান ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার পর পালাক্রমে নেতৃস্থানীয় নেতাদের বাসায় বসে দল পরিচালনার নীতি-কর্মসূচি গ্রহণ করা হতো। কোনো অফিস ছিল না। তবে ১৯৫৩ সাল থেকে ৯ কানকুন বাড়ি লেনে অস্থায়ী একটি অফিস ব্যবহার করা হতো। ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকার ৫৬ সিমসন রোডে দলের অফিস স্থাপন করা হয়। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার পর এর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯১, নবাবপুর রোডে দলের অফিস নেন। এর কিছু দিন পর অস্থায়ীভাবে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে কিছু দিন বসেন নেতারা। পরে পুরানা পল্টনে দুটি স্থানে দীর্ঘদিন দলের অফিস ছিল।


