শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিশেষ নিউজ

বাংলাদেশে ফেসবুকের এক জিহাদী ইমামকে চিনে রাখুন


NEWSWORLDBD.COM - July 18, 2016

Imam Jamalul Facebookএকটি মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা জামালুল হাসান। ‘আমরা হব তালেবান, বাংলা হবে আফগান’ স্লোগান দিয়ে মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুরে সক্রিয় থেকে নানা রকম বিতর্কিত মন্তব্যে বরাবরই ছিলেন আলোচনায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে তাঁর প্রচার চালানোর কাজে ব্যবহার করেন। সেখানে ঢালাওভাবে সরকারবিরোধী ও ধর্মীয় উগ্রতা প্রচার করেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ‘নেকনজরের’ কারণে থেকেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু সম্প্রতি খুতবা নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কওমি মাদ্রাসা বানানোর স্টেটাস দিয়ে পড়েছেন বিপাকে। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে এবং আপাতত মসজিদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দরবার ও মাজারবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত  খাগড়াছড়ির দীঘিনালার এই ইমাম শবেবরাতের রাতে কবর জিয়ারতকারীদের ওপর হামলার নেতৃত্বও দিয়েছেন। এ রকম কর্মকাণ্ডে তিনি বরাবরই আলোচনা-সমালোচনায় থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতার কাছে তিনি বরাবরই থেকেছেন একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ আলেম’ হিসেবে! সে কারণে কখনোই কোনো মামলা বা ঝামেলারও সম্মুখীন হতে হয়নি তাঁকে। ফেসবুকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও বিষোদ্গার করেছেন। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন উঠলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেনি কখনো। যদিও মাওলানা জামালুল হাসান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উপজেলা শাখার সহসভাপতি। তবে তাঁর ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে হেফাজত, জামায়াত-শিবির এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীর সঙ্গে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ পুলিশ কর্মকর্তাও। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ও প্রচারণার বিষয়ে জামালুল হাসানের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য, ‘কিছু মন্ত্রী ধর্মবিরোধী কাজে জড়িত, তাই তিনি ইসলামের দায়িত্ব থেকে সেগুলো প্রচার করেন মানুষকে সচেতন করার জন্য।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জামালুলের স্টেটাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কাদের মোল্লার ছবি দিয়ে সেখানে লেখা হয়েছে, ‘কে বেশি জনপ্রিয়’। এখানেই শেষ নয়, ‘ইতিহাসের চার জালিম!’ শিরোনাম দিয়ে ফিরাউন, লেনিন, তৃতীয় মাও জে দং ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা বলা হয়েছে। জামায়াত-শিবির পরিচালিত বাঁশের কেল্লায় সরকার ও পুলিশবিরোধী পোস্টগুলো নিজের ফেসবুক আইডি থেকে পুনঃপ্রচার করেছেন তিনি। তাঁর আইডি থেকে প্রচার করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়ের ছবি, সঙ্গে পচা গমের ছবি। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘ফাঁস হয়ে গেল পচা গমে জয়ের এক শ হাজার ডলারের কমিশন বাণিজ্য’। বর্তমান সরকারকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে তাদের উত্খাত করতে নিয়মিত প্রচার চালানো হয় তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে।

কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ইমাম শুক্রবারে মসজিদে আওয়ামী লীগ ও সরকারবিরোধী বক্তব্য দেন। ইসলাম ধর্মকে রক্ষার জন্য জিহাদি বক্তব্যও দেন।  ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁরই নেতৃত্বে ইসলাম রক্ষার নামে বিক্ষোভ মিছিল করে বাস টার্মিনালে গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুর করা হয়। সে ঘটনার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। ২০১৩ সালে হেফাজতের লংমার্চের সময় তিনি স্টেটাসে বলেন, ‘হে বাংলার মুসলমান, তোমরা আওয়ামী লীগের নাস্তিক সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নাও। নয়তো এ সরকার বাংলাদেশে ইসলামের অস্তিত্ব রাখবে না।’

দীঘিনালা গাউছুল আজম জামে মসজিদের সভাপতি মো. সরোয়ার জানান, গত বছর শবেবরাতের রাতে কয়েকজনসহ তাঁরা থানা বাজারসংলগ্ন কবরস্থানে স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে গেলে মাওলানা জামালুল হাসানের নেতৃত্বে একদল লোক সেখানে হামলা চালিয়ে তাঁদের মারধর করে। তখন খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে তিনি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি। এ ব্যাপারে তখন মাওলানা জামালুল হাসান বলেছিলেন, কবর জিয়ারত নাজায়েজ কাজ। আর রাতে বাতি জ্বালিয়ে ওই নাজায়েজ কাজ করায় তাদের বাধা দেওয়া হয়েছে।

এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে মাওলানা জামালুল হাসান জানান, মুসলমান হিসেবে মানুষকে সঠিক বিধান জানানো ইমানি দায়িত্ব। ইসলাম ধর্মের জন্য মানুষকে আন্দোলনমুখী করাও ইমানি দায়িত্ব। তাই তিনি সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সেসব কথা ফেসবুকে ও মসজিদে প্রচার করে মানুষকে সচেতন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বিষোদ্গার করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হয়তো অমনোযোগের সহিত পোস্ট দিয়েছি।’

দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মানুষকে সচেতনতার নামে তিনি যা প্রচার করছেন তা জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার শামিল। এ ব্যাপারে দীঘিনালাবাসীর সতর্ক হওয়া এবং এর বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দীঘিনালা থানার উপপরিদর্শক ফয়জুল করিম বলেন, দেরিতে হলেও জামালুল হাসানের ফেসবুক স্টেটাসের বিষয়গুলো পুলিশের নজরে এসেছে এবং সব কিছুর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

দীঘিনালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, তিনি যা প্রচার করছেন তা তো ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, বরং রাজনীতির পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি করা। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা চলছে।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ির সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রইছ উদ্দিন জানান, জামালুল হাসানের বিষয়ে তদন্ত চলছে। আপাতত তাঁকে মসজিদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যে কোনো সংবাদ জানতে আমাদের ফেসবুক পেজ 'লাইক' করতে পারেন (এই লাইনের নিচে দেখুন)...






-

Editor & Publisher: M. Arman Hossain

NEWSWORLDBD.COM
email: [email protected]
Phone: +8801787506342

©Titir Media Ltd.
News & Editorial: 39 Mymensingh Lane, Banglamotor
Dhaka-1205, Bangladesh.