ঢাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ পুলিশ যে ১০ সন্দেহভাজনকে খুঁজছে তার মধ্যে অন্যতম জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন সহযোগী প্রফেসর। তিনি বাংলাদেশী নাগরিক। নাম মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি। কিয়োটো প্রিফেকচারে রিটসুমেইকান ইউনিভার্সিটিতে তিনি অধ্যাপনা করতেন। তার স্ত্রী একজন জাপানি।
গত বছর তিনি স্বপরিবারে ইউরোপের উদ্দেশে জাপান ত্যাগ করার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য জাপান টাইমস। এতে বলা হয়েছে, সন্দেহ করা হচ্ছে ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকতে পারে। ওজাকি ২০১৫ সালের এপ্রিলে কলেজ অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সে ব্যবসায় প্রশাসন (বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন) পড়ানোর মধ্য দিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। গত বছর জানুয়ারি থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এ প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ কথা বলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে। তারপর মার্চে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এ মাসের শুরুতে ঢাকায় হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়। এতে ওজাকি জড়িত কিনা তা পরিষ্কার নয়। বাংলাদেশী তদন্তকারীরা বলেছেন, ঢাকার পুলিশ গত বছরের মে মাসে ইসলামপন্থিদের একটি হামলার পর থেকে তাতে জড়িত এমন সন্দেহভাজন বাংলাদেশীদের খুঁজছে। ১লা জুলাই আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর পুলিশ প্রকাশ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ওই হামলায় জিম্মি করে ২০ জনকে হত্যা করা হয়। এর বেশির ভাগই জাপান ও ইতালির নাগরিক।
এরই মধ্যে নিউ ইয়র্ক টাইমস তার অনলাইন সংস্করণে রিপোর্ট করেছে যে, বাংলাদেশের ভিতরে ও দেশের বাইরের সংগঠনগুলোর মধ্যে জঙ্গি তৎপরতার কাজে জড়িত ছিলেন তিনজন ব্যক্তি। তার একজন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ওজাকি। ওজাকি যখন জাপানে ছিলেন তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে জাপানি পুলিশ। তবে জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে তার কোন যোগসূত্র তারা খুঁজে পায় নি।অনির্ভরশীল এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওজাকি তুরস্কে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পারেন নি।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে রিটসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে প্রবেশ করেন সাইফুল্লাহ ওজাকি। ২০১১ সালে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক বিষয়ে সম্পন্ন করেন পিএইডডি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে একটি আধুনিক হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়েছেন সাইফুল্লাহ ওজাকি। বৃত্তি পেয়ে তিনি পড়াশোনা করতে চলে যান জাপানে।
তার পিতা বলেছেন, জাপান গিয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নাম পাল্টে ফেলেন। এতে বিস্মিত তার পরিবার।


