রাজধানীর ওয়ারীর জয়কালি মন্দির এলাকার শতাধিক দোকানে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সভাপতি দাবিদার জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (স্বপন) ও সম্পাদক আবু তাহের রিমন প্রতিমাসে এসব দোকান থেকে ৬০ হাজার টাকা করে তোলেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীর জয়কালি মন্দিরের জলসা হোটেল থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত রাস্তার পাশে শতাধিক দোকান।
ফ্লাইওভারের নিচের খালি জায়গায় টং বা ঝুপড়ি ঘরের মত করে গড়ে ওঠা এসব দোকানে বিক্রি হয় চা, সিগারেট ও বিভিন্ন ধরনের খাবার সামগ্রী।
এসব দোকান গড়ে ওঠা থেকে শুরু করে সবই নিয়ন্ত্রণ করে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক। তারা প্রতিদিন দুই হাজার করে মাসে ৬০ হাজার টাকা তোলেন এসব দোকান থেকে। টাকা না দিলে জোর করে নিয়ে যায়, না হয় ভাংচুর করে। এজন্য নিরুপায় হয়েই তাদের টাকা দিয়ে দিতে হয় ব্যবসায়ীদের।
আলমগীর নামের এক দোকানি জানান, ‘এদের যন্ত্রণায় শেষ। ভালো করে ব্যবসা করতে দেয় না। নিজেরা লোকজন নিয়ে এসে ফাও খায়, আবার দিনশেষে চাঁদাও চায়। না দিলে বুঝেনই তো ভাঙচুর করে। এজন্য বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়।’
আরেক দোকানি মোশাররফ জানান, ছাত্রলীগ সভাপতি স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক রিমন প্রতিদিন এখান থেকে চাঁদা নেয়। তাদের লোকেরা এসে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, প্রতি মাসে এখান থেকে ৬০ হাজার টাকা তুলে। প্রতিদিন কয়েকজন লোক ফাও খাইলে আর চাঁদা তুললে আমরা ব্যবসা করবো কীভাবে?
মহানগর ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (স্বপন) ও আবু তাহের রিমন ছাত্রলীগের কেউ না। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি বায়জিদ আহমেদ বলেন, ‘স্বপন-রিমন নামের কাউকে আমি চিনি না। সাধারণ সম্পাকের সঙ্গে পরিচয় থাকতে পারে। হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে আমাদের কোনো কমিটি নেই। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কেউ হয়তো চাঁদাবাজি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের (ছাত্রলীগ) কেউ না, তাই সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেয়ার সুযোগ নেই। তবে আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমরা সহযোগিতা করব।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ জানান,’ওরা পদবীধারী কেউ না। মাঝে মাঝে আসে দেখি। তবে ছাত্রলীগ পরিচয়ে চাঁদাবজি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও আবু তাহের রিমন চাঁদাবাজির বিষয়টি যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন।
জহিরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সরেজমিনে এসে দোকানদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারবেন। কারা এগুলো করে।’
আবু তাহের রিমন বলেন, ‘আমি অনেক দিন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে আছি। এমন কোনো কাজ আমি করি না। তবে, চাঁদাবাজি হয়। ছাত্রলীগ নেতারা এগুলো করে। সরেজমিনে এসে দোকানদের সঙ্গে কথা বলেন। ভালো করে তদন্ত করে দেখেন জানতে পারবেন।’


