বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

ফখরুলরা দেশে ফিরেছেন

Fakhrul Back from UKব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনায় যোগদান শেষে দেশে ফিরেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল।

শনিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় অংশ নিতে গত ১৬ জুলাই লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তারা। তবে লন্ডনে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে কারণে হাউস অব লর্ডসে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। আলোচনায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সেখানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জঙ্গি হামলা, মানবাধিকারসহ চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়।

হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের জানান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা ‘আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে’ মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে আমরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছি। সরকার (দুদক) প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিম্ন আদালতের দেয়া খালাসের রায় বাতিলের জন্য ওই আপিল করেছিল। উচ্চ আদালতের কাছ থেকে তারেক রহমান সাহেব ন্যায় বিচার পাননি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘সরকার তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। সেজন্য তারা বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে সাজার এই কৌশল নিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, তারেক রহমানের মামলা ও সাজার বিষয়টি রাজনৈতিক। আমরা এটি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবো।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচারের যে মামলাটি সরকার (দুদক) করেছে, সেটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিচারিক আদালত তারেক রহমান সাহেবকে খালাস দিয়ে যে রায় দিয়েছিলেন, সরকার (দুদক) প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তা বাতিলের জন্য আপিল করেছিল। উদ্দেশ্য একটাই, তারেক রহমান ও বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা।’

হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে লন্ডন থেকে স্বশরীরে এসে তারেক রহমানকে আপিল করতে হবে, এ নিয়ে বিএনপি কী ভাবছে?- জানতে চাইলে দলটির মহাসচিব বলেন, ‘দেখুন আপনারা জানেন, এই মামলা একটি রাজনৈতিক মামলা। তারেক রহমান সাহেব দেশের সর্ব বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। রাজনৈতিক কারণেই তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। আমরা এটিকে আইনগত এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই, সেটাই আমরা করবো।’

দেশের সাম্প্রতিক সময়ে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সরকারের অনাগ্রহের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার জঙ্গিবাদ মোকাবেলার ইস্যুতে ঐক্য চায় না। তারা সেজন্য একের পর এক ইস্যু সৃষ্টি করছে।’

হাউস অব লর্ডসে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রহীন অবস্থা, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি।’

এদিকে, সেন্ট্রাল লন্ডনের হিলটন হোটেলে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায়কে প্রতিহিংসামূলক উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য বিএনপি এ সভার আয়োজন করে।

সেখানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্ব সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত। ষড়যন্ত্র করে সাজানো মামলায় রায় দিয়ে তার অগ্রযাত্রাকে কেউ রুখতে পারবে না।’

লন্ডন বিএনপি সূত্র জানায়, হাউস অব লর্ডসে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনার আগে ও পরে বিএনপির মহাসচিবসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ও দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এছাড়া লন্ডনে পৌঁছানোর পর বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ডিনারও করান তারেক।

আরও পড়ুন