বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গুলশানের মতো কল্যাণপুরের জঙ্গিদেরও কালো পতাকা ও কালো পাঞ্জাবি

kollanpur-swat-team02গুলশানে জঙ্গি হামলার আগে পাঁচ জঙ্গি অস্ত্র হাতে কালো পাঞ্জাবি পড়ে আইএস এর কালো পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে, যা পরে আইএস প্রকাশ করে। কল্যাণপুরে অভিযান শেষেও একই ধরনের পতাকা ও কালো পাঞ্জাবি পাওয়া গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরনে কালো পাঞ্জাবি ছিল। ওই বাসা থেকে আরও বেশ কিছু নতুন কালো পাঞ্জাবি ও কালো পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ফ্ল্যাটে একটি গ্রেনেড ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, পুলিশের বিশেষায়িত টিম সোয়াট ও বোমা নিস্ত্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে যায় ও রেকি করে। ভোর ৫ টা ৫১ মিনিটে পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় জঙ্গিরা ফ্ল্যাটের দরজা খুলে গুলি করতে করতে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের পরনে কালো রঙের জঙ্গি পোশাক ছিল, মাথায় ছিল পাগড়ি; সঙ্গে ছিল ব্যাগপ্যাক।

ব্যাগগুলো তল্লাশি করলে নিশ্চয়ই কিছু পাওয়া যাবে বলে আইজিপি শহীদুল হকের ধারণা। তিনি বলেন, গুলশানে জেএমবির যে গ্রুপটি হামলা চালিয়েছিল, এরা সে গ্রুপেরই কেউ। আমাদের ধারণা তারা জেএমবির সদস্য, তবে ওরা নিজেদের আইএস বলে দাবি করে। আইএসের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেছেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। হতাহতরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জেএমবির সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন।

কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের গার্লস হাই স্কুলের পাশে তাজ মঞ্জিল নামের ছয় তলা ওই ভবনকে স্থানীয়রা চেনেন জাহাজ বিল্ডিং নামে, যেখানে বেশিরভাগ ফ্ল্যাট মেস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবনের পঞ্চম তলায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছিল বলে পুলিশের তথ্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, সোমবার মধ্যরাতের পর পুলিশ ও র‌্যাবের প্রাথমিক অভিযান শুরু হয়। পরে সোয়াট বাহিনীর নেতৃত্বে অপারেশন স্টর্ম টোয়েন্টি সিক্স নামে মূল অভিযান চলে ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা।

অভিযানের পর মঙ্গলবার ভোরে সেখানে নয়জনের লাশ পাওয়া যায় বলে শেখ মারুফ হাসান জানান। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত নয় জনের পরিচয় জানা না গেলেও ওই ভবন থেকে জিহাদি বই, বোমা ও অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন তিনি।

ওই ভবনের ছয় তলার বাসিন্দা আল্লামা ইকবাল অনিক জানান, ভবনের প্রতিটি তলায় চারটি করে ফ্ল্যাট। বেশিরভাগ ফ্ল্যাট ব্যাচেলরদের ভাড়া দেওয়া, বাড়িওয়ালা থাকেন দোতলায়।

এর মধ্যে পঞ্চম তলার সাতটি কক্ষ সন্দেহভাজন ওই জঙ্গিরা ভাড়া নিয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে সাতজনের লাশ পাওয়া গেছে করিডোরে, দুজনের লাশ ছিল দুটি কক্ষে।

আরও পড়ুন