বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতা হাসান খালেদের লাশ উদ্ধার

Hasan Khaled DBCCIresidentনিখোঁজের তিনদিন পর ডাচ বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হাসান খালেদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বুড়িগঙ্গার তীরে লাশ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদৌস হাসান।

ফেরদৌস বলেন, মরদেহের সঙ্গে থাকা ভিজিটিং কার্ড থেকে ধারণা করা হচ্ছে এটি হাসান খালেদের লাশ। তার পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে।

গেল শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন ডিবিসিসিআই সভাপতি ও ব্যবসায়ী মো. হাসান খালেদ। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার শ্যালক শরিফুল আলম।

গত শনিবার ২৩ জুলাই সকাল থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ওসি নূরে আজম জানান, শনিবার রাতে হাসান খালেদের শ্যালক শরীফুল আলম ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার সকালে তিনি (হাসান খালিদ) শনিবার সকালে ধানমন্ডির ৪/এ নম্বর রোডের ৪৫ বাসা থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে নাস্তা করার আগে ওষুধ খেতে হয় ব্যবসায়ী হাসান খালিদকে। কিন্তু খাবার টেবিলে বসে দেখেন ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। তখন নিজেই ওষুধ কিনতে নিচে নামেন। এরপর থেকে আর বাসায় ফেরেননি তিনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে খালিদের মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এর পর থেকেই পরিচিত ও আত্মীয় স্বজনের কাছে খোঁজ নেয়া হয়। সারাদিন খোঁজ না পেয়ে রাতে থানায় জিডি করা হয় স্বজনদের পক্ষ থেকে।

পুলিশ তাঁর মুঠোফোন ট্র্যাক করে দেখতে পেয়েছে বাসার পাশেই তাঁর মুঠোফোন দুটি বন্ধ হয়ে যায়। হাসান খালেদের শ্যালক শরিফুল আলম সোমবার সন্ধ্যায় জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য সব জায়গায় আমরা খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কেউ তাঁর সন্ধান দিতে পারেননি। তাঁর নিখোঁজের পেছনে পারিবারিক বা ব্যবসায়িক কোনো কারণ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো কারণ তাঁর জানা নেই। শরিফুল আলম বলেন, কেউ হাসান খালেদকে অপহরণ করেছে বলেও তাদের মনে হয়না। এখন পর্যন্ত কেউ মুক্তিপণ চায়নি।

হাসান খালিদ আমদানি-রফতানি ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবসায় জড়িত। বাংলাদেশের সাথে নেদারল্যান্ডসের বাণিজ্যের উন্নয়নে ট্রেড ফ্যাসিলিয়েটর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

ব্যবসায়ী হাসান খালেদ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন। নিউ ইস্কাটনে তাঁর দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। এর একটি নিউ এরা ট্রেডিং ও অন্যটি কেমিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। তাঁর প্রতিষ্ঠান হংকংভিত্তিক ক্রকোডাইল গার্মেন্টস-এর বাংলাদেশি পরিবেশক। বসুন্ধরা সিটিতে তাঁর একটি দোকানও আছে।

আরও পড়ুন