বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অক্টোবরে ঢাকায় পঞ্চম নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এ সংলাপে দু’দেশের মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সহযোগিতার ইস্যু প্রাধান্য পাবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দু’দেশের মধ্যে আসন্ন নিরাপত্তা সংলাপকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কল্যাণপুরে পুলিশ এক জঙ্গি আস্তানায় অভিযান পরিচালনার সময় নয় জঙ্গি নিহত হয়। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠককালে বার্নিকাট কল্যাণপুরে পুলিশের অভিযানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন পঞ্চম নিরাপত্তা সংলাপে এক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ইস্যু বেশি গুরুত্ব লাভ করবে।
আগের বৈঠকগুলোতে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবারের বৈঠকে এসব ইস্যুতে বড় পরিসরে আলোচনা হবে। বিকালে প্রায় ১ ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকের পর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কোনো কিছু না বলে অতিথি ভবন ছাড়েন পররাষ্ট্র সচিব ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তবে সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আলোচনায় নিরাপত্তা সহযোগিতা গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগেই জানিয়েছে যে, সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশকে সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বাংলাদেশ সফর করে একথা জানান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কী কী ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নেয়া হবে তা যাচাই করে জানানো হবে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা নেয়া হবে সেটা নির্ধারণে কাজ করছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সম্প্রতি যুগান্তরকে বলেছেন, বাংলাদেশের প্রয়োজনের নিরিখে জঙ্গি দমনে বিদেশী সহায়তা নেয়া হবে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশী সহায়তার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ব্যাপারেই বাংলাদেশের আগ্রহ বেশি।
সূত্রমতে, নিরাপত্তা সংলাপে জঙ্গিবাদ ইস্যুর পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা, প্রথাগত ও অ-প্রথাগত নিরাপত্তাসহ সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতা, সামরিক সহযোগিতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে যার মাধ্যমে উভয় দেশের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।
এছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংলাপে ভারত, আফগানিস্তান, মিয়ানমার তথা ভারত মহাসাগরীয় ইস্যুতেও এ ধরনের সংলাপে আলোচনা হয়ে থাকে। ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর একবার ঢাকায় এবং একবার ওয়াশিংটনে পালাক্রমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ে জঙ্গিবাদ দমনে চুক্তি : তৃণমূল পর্যায়ে তরুণ সমাজ তথা ঝুঁকিতে থাকা গোষ্ঠীকে জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়া প্রতিরোধ করতে স্থানীয় দুটি এনজিওর সঙ্গে চুক্তি করেছে গ্লোবাল কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যান্ড রেসিলিয়েন্ট ফান্ড (জিসিআইআরএফ-জিসার্ফ)। মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় জিসার্ফের নির্বাহী পরিচালক খালিদ খোসার এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন ও রূপান্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে চুক্তি সই হয়। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজার জেলায় তরুণ ও নারীসহ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হবে।


