সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে চাকরির বয়স অন্তত ২ বছর বাড়াতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি মনে করি ৩০ বছর অতিরিক্ত বয়স। এরপর আর বাড়ানোর কোনও যৌক্তিকতা নেই। যারা পারে তারা পারেই। কারণ কথায় আছে ‘যে পারবে না নয়েতে, সে পারবে না নব্বইতে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, পঁচাত্তরের পর এদেশে লেখাপড়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশনজট থাকতো। এজন্য পরীক্ষা দিতে দেরি হয়ে যেত। সময় মতো পরীক্ষা দিতে ও পাস করতে পারতো না। এজন্য তারা চাকরি পাওয়ার সুযোগটা কম পেত। কিন্তু এখন তো কোন সেশনজট নেই। নিয়মিত পড়াশুনা করলে ২২ থেকে ২৩ বছরের মধ্যেই ছেলেমেয়েরা মার্স্টার্স ডিগ্রি পেয়ে যায়। সেখানে যদি একটু দেরিও হয় তাহলে সর্বোচ্চ ২৪/২৫ বছরের মধ্যে পড়াশুনা শেষ হয়ে যায়।
তিনি জানান, এক সময়ে চাকরির বয়সসীমা ২৫ বছর ছিলো। পরবর্তীতে ২৬ বছর করা হয়। এই সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরি পেতে হতো। কিন্তু সেটাকে ৪ বছর বাড়িয়ে ৩০ বছর করা হয়। কাজেই এই ৩০ বছরের মধ্যে যদি কেউ চাকরি পাওয়ার সুযোগ না পায় তাহলে এটা সত্যি খুবই দুঃখজনক।
শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলে বলেন, ইতোমধ্যে চাকরির বয়স ৪ বছর বাড়িয়ে ৩০ করা হয়েছে। আর কত বাড়াতে হবে। তাহলে কী পৌঢ় বছরে চাকরি লাগবে সেটাই আমার প্রশ্ন। ২২ বছর থেকে ২৫/৩০ বছর পর্যন্ত যে মেধাটা থাকে তা তো আস্তে আস্তে কমতে থাকে। মেধা তো বাড়ে না। বয়স যত বাড়ে মেধা তত কমতে থাকে। যদিও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়েছে।


