বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শ্মশান-মন্দিরের জমি দখল করে শেখ রাসেলের নামে কলেজ

Nilfamary smshashanউত্তরাঞ্চলীয় জেলা নীলফামারী জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের বালুবাড়ির ডাঙ্গা মহাশ্মশান, কালিমন্দির ও শিব মন্দির সহ এর জমি দখল করেছে একটি কুচক্রি মহল।
এভাবে জমি দখল করে সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রয়াত কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে কলেজ স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে দখলকৃত মহাশ্মশান ও কালিমন্দিরের জায়গায় শেখ রাসেল মহাবিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষনা দিয়ে ফায়দা লুটার অপচেস্টা করছে বলে অভিযোগ স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের। এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই এলাকার প্রায় আড়াইশত সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের নারী-পুরুষ স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি শুক্রবার জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দিয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় কচুকাটা মৌজার জে,এল নম্বর ৪৭ এস,এ খতিয়ান ২৯০ এস,এ দাগ নম্বর ২৫৫৯ তে মোট ১৯ দশমিক ১০ একর জমি রকম শ্মশানের নামে রয়েছে। সেখানে ১৮৯৯ সাল হতে শ্মশানের পাশাপাশি সেখানে  স্থায়ীভাবে রয়েছে কালিমন্দির ও শিব মন্দির। পাশাপাশি প্রতি বছর সেখানে দূর্গাপূজা মন্ডব স্থাপন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসব পালন করে থাকে। এ অবস্থায় কচুকাটা ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়াডের ৭১ সালের পাকি সেনাদের দোসর মৃত ধরিজ উদ্দিনের দুই ছেলে  নুরুজ্জামান ও বকুল এবং জামায়াত কর্মী  মৃত আলী মামুদের ছেলে অপিছার তাদের বাহিনী নিয়ে গত ১৭ জুলাই টিনের চালার ঘর তুলে ওই স্থানটি দখল করে নিয়েছে। দখলের পর সেখানে তারা গাছ রোপন এবং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পাহাড়া বসিয়েছে।

পাশাপাশি হুমকি দিয়েছে শ্মশান ও কালিমন্দির এবং শিব মন্দিরে কোনও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে প্রবেশ করতে পারবে না। সেই সাথে অবৈধ দখলকারীরা ঘোষনা দিয়েছে সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রয়াত কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে কলেজ স্থাপন করা হবে।

স্মারকলিপির অভিযোগ মতে, এই অবৈধ দখলদাররা আওয়ামী লীগের দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান, কালিমন্দির শিবমন্দির অবৈধভাবে দখল করে ফায়দা লুটার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই অভিযোগকারীরা জেলা প্রশাসকের নিকট সুষ্ঠ তদন্ত করে তাদের শ্মশান ও কালি মন্দিরের জায়গা জমি উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে কচুকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান বলেন একটি মহল হিন্দুদের শ্মশান ও কালিমন্দিরে জায়গা অবৈধভাবে দখল করেছে। বিষয়টি জেলার নেতৃবৃন্দকে অবগত করেছি এবং জায়গাটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন