বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ইস্যু: দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সচেষ্ট সরকার

Gulshan_dedরাজধানীর কূটনৈতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকার। মঙ্গোলিয়া সফর আসেম সম্মেলন থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন গুলশানের ঘটনা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে ছেদ পড়েছে। তাই ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাসহ দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এখন মরিয়া ক্ষমতাসীনরা। সরকারের নীতি-নির্ধারকদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারের নীতি-নির্ধারকদের ভাষ্য, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে বিদেশিদের সঙ্গে চিড় ধরা সম্পর্ক অনেক কষ্টে জোড়া লাগিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। এতে বিদেশি বিনিয়োগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সরকারের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্টতাও। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে আসতে পেরেছে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। কিন্তু গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বেশ কিছু বিদেশি নিহত হওয়ায় সে সম্পর্কে আবার ফাটল ধরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গুলশানের ঘটনা সরকারের জন্যে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি বেশ কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্যে যা রয়েছে তা হলো, সরকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে, সংবাদমাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা এবং এ সংক্রান্ত ছোট নাটক প্রচার করা হচ্ছে। সব মসজিদে নিয়মিতভাবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সহিংস চরমপন্থাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তরুণ সম্প্রদায়, নারী ও অরক্ষিত জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে সরকার।

এছাড়া গ্লোবাল কমিউনিটি অ্যান্ড এনগেজমেন্ট রিজিলিয়েন্স ফান্ড (জিসিইআরএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে চরমপন্থা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার মতো বিষয়গুলোও থাকছে সরকারের পরিকল্পনায়। এসব প্রতিরোধমূলক পদেক্ষেপগুলো ভাবমূর্তি ফেরানোর তাগিদেই করছে সরকার। প্রতিরোধমূলক এসব পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই বিদেশিদের অবহিত করা হয়েছে বলেও জানাগেছে। বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আরও যা করেছে সরকার তার মধ্যে অ্যতম জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বিদেশিদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।

জানা গেছে, এরই অংশ হিসেবে বিদেশের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর প্রায় সব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কর্মকর্তা যেই দেশে নিযুক্ত রয়েছেন সে দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মাত্রা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাসকে সন্ত্রাসবিরোধী গৃহীত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা। তাদের বোঝাতে সক্ষম হওয়া যে, বাংলাদেশে গুলশানের সন্ত্রাসী হামলা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদেরই অংশ।

তবে সরকার যেকোনও মূল্যে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করবেই। একইসঙ্গে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বাংলাদেশ যে বসে নেই, সেই বার্তাও বিদেশিদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ ইস্যুতে বিদেশি পরামর্শ গ্রহণ করা এবং তা সঙ্গে সঙ্গে বাংলদেশ সরকারের কাছে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশিরা কোনও তথ্য জানতে চাইলে তা দ্রুত সেইসব দেশকে অবহিত করার কথাও জানানো হয়েছে। দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তাদের আরও বলা হয়েছে, কুটনীতিক পাড়া ও বাংলাদেশে থাকা বিদেশি লোকজনের বসবাসরত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে সরকার। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তাও তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ইস্যু মোকাবিলায় ইতোমধ্যে দেশে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনাবোধ জাগাতে যেসব পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করা হয়েছে তাও অবহিত করতে দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, গুলশানের ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এটা সত্যি। তবে তা পুনরুদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। তথ্য, পরামর্শ আদান-প্রদানের কাজও চলছে। তিনি বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে সরকারের ‘জিরো ট্রলারেন্স’ নীতির কথাও জানানো হয়েছে বিদেশিদের। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেওয়া পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়ে বিদেশি অনেক দেশ আমাদের সহযোগিতার জন্যে ইতোমধ্যেই পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এ ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে দেশে যেমন গণজাগরণ সৃষ্টি করতে চায় সরকার, তেমনি বিদেশেও সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ তুলে ধরতে চাই আমরা। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, কল্যাণপুরে বড় অভিযান পরিচালনা করে ইতোমধ্যে সরকার দেশে ও বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সামনে আরও সফলতা আসবে- এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন