চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় তিন বাউলকে বেদড়ক মারধর-নির্যাতন চালিয়ে তাদের বসত ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতে উপজেলার গোবিন্দপুরে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে দুর্বৃত্তরা কেটে দিয়েছে তিন বাউলের চুলও।
শুক্রবার রাত ১২টার দিকে গোবিন্দপুরের জুলমত শাহের আশ্রমে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাউলদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ৮ থেকে ৯ জন যুবক আশ্রমে ঢুকে প্রথমে জুলমত শাহ বাউলকে খোঁজ করে। এরপর তাকে আশ্রমের ভেতরে একটি গাছের সাথে হাত-পা এবং চোখ বেঁধে রাখে। এ সময় তার সাথে থাকা স্ত্রী মোমেনা বেগম ও গুরুভাই রিনুপদ হালদারকেও হাত-পা এবং চোখ বেঁধে রাখে। তবে, আশ্রমে সে সময়ে থাকা জুলমত শাহের আট বছর বয়সী নাতি রাকিবকে কিছু বলেনি দুর্বৃত্তরা।
হাত-পা-মুখ বেঁধে রাখার পাশাপাশি বাউল জুলমত ও রিনুপদ হালদারের চুল কেটে দেয়। এরপর একে একে দুটি বসত ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আগুনে নগদ ১৭ হাজার টাকা, বইপত্র, আসবাবপত্র, ২০০টি কাঁথা ও বালিশ, এক বস্তা চাল, শ্যালো মেশিন পুড়ে যায়। অসংখ্য গাছপালা কেটে দেয়া হয়।
হামলার শিকার বাউল জুলমত শাহ জানান, দুর্বৃত্তরা তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। প্রায় দেড়ঘণ্টা ধরে দুর্বৃত্তরা সেখানে তাণ্ডব চালায়।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি নিজে ও পরিদর্শক তদন্ত আব্দুল খালেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রশিদুল হাসান দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কারা এবং কোথা থেকে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাউল অনুসারী জুলতম খাঁ ও নগেন হালদারকে মারধরের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার পর দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে তাদের একটি বসত ঘর পুড়িয়ে দেয়।


