মায়ের কিশোরীবেলার ভেঙে দেয়া প্রেমকে ফিরিয়ে দিয়েছেন দুই মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর মাকে সেই প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন তারা। ঘটনাটি ভারতের কেরলের কোল্লামের। গত ২১ জুলাই এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। খবর আনন্দবাজারের।
১৯৮৪ সালে আজকের দুই মেয়ের মা অনিথা দশম শ্রেণীতে পড়তেন। বাবা ছিলেন ভারতীয় সেনার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। কোচিং সেন্টারে পড়তে গিয়ে অনিথার পরিচয় হয় বিক্রমনের সঙ্গে।
বিক্রমণ সেই কোচিং সেন্টারে পড়াতেন, পাশাপাশি করছেন জোরকদমে রাজনীতি। সিপিএমের পার্টি মেম্বার ছিলেন। আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে দু’জনের। প্রেম। কিন্তু অনিথার সেই প্রেম বেশিদিন চাপা থাকেনি।
বাড়িতে জানাজানি হয়ে যায়। তার পরই যত গোলমালের সূত্রপাত। বাবার রক্তচক্ষুর সামনে অনিথা হার মানতে বাধ্য হন। অনেকটাই বাধ্য হন প্রেমিক বিক্রমনকে বাঁচানোর জন্য। কারণ, সম্পর্ক না ভাঙলে বিক্রমনের প্রাণহানির আশংকা করেছিলেন অনিথা।
বাবার ‘মিলিটারি’ শাসনের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণের পরও অবশ্য আরও অনেক মূল্য দিতে হয়েছিল জীবনে। বিক্রমনের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় যাতে না থাকে, তার ব্যবস্থাও করা হয়।
স্কুল থেকেই তাকে ছাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তারপর পাত্র দেখেশুনে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। মদ্যপ স্বামীর সঙ্গে ঘর সংসার করতে করতেই জন্ম হয় দুই মেয়ে আথিরা আর আশিলির।
এভাবেই চলছিল। কিন্তু ছোট মেয়ের জন্মের পর অত্যধিক মদ্যপানেই অসুস্থ হয়ে মারা গেলেন স্বামী। কঠিন লড়াই শুরু হল অনিথার। একা একা দুই মেয়েকে মানুষ করার লড়াই।
বন্ধুর মতোই, বড় হয়ে ওঠা মেয়েদের কাছে নিজের জীবনের সব গল্প বলেছেন অনিথা। কিছু লুকোননি। বলেছিলেন বিক্রমনের কথাও।
তিন দশকের দীর্ঘ সময়ে জীবন যে কতটা বদলে যায় তা অনিথার অজানাও নয়। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা বোধহয় এখানে অন্য এক নাটকের কলাকুশলী তৈরি করে রাখছিলেন।
যেমন বড় মেয়ে আথিরা। মায়ের সেই প্রথম প্রেমের কথা শুনেই তিনি ঠিক করে ফেলেছিলেন, খুঁজে বের করবেন বিক্রমনকে।
আর বিক্রমন? ৩২ বছর আগে কেড়ে নেয়া প্রেমের সেই যন্ত্রণাটা আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে গেলেও, ভুলতে পরেননি সেই কিশোরী মেয়েটাকে। বিয়েও করেননি। নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন কোল্লাম থেকে অনেক দূরে।
সেই বিক্রমনকে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ঘেঁটে ঘেঁটে সত্যিই একদিন বের করে ফেললেন বড় মেয়ে আথিরা। তারপর একদিন… হ্যাঁ, দেখা হল দু’জনের। ৩২ বছর পর।
বয়স বেড়েছে দু’জনের। কৈশোর আর তারুণ্যের সেই শরীর হারিয়ে গেছে। তবু, চিনতে অসুবিধে হয়নি। দুই মনেই জমে থাকা বিরহের বাষ্প জমে কতটা জল হয়ে চার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়েছিল তা সাক্ষীরাই জানেন।
কিন্তু অনিথার দুই মেয়ে শুধু দেখা করিয়েই থেমে থাকেননি। চার হাত এক করে দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিলেন মায়ের।
গত ২১ জুলাই ছিল সেই বিয়ের দিন। আর মায়ের অসম্পূর্ণ প্রেমের এই পরিণতি পাওয়ার কাহিনী নিজের ফেসবুক পেজে লিখে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ারও করেছেন আথিরা।


