বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প: দরপত্র স্থগিত নয়, সময় বেড়েছে

Matarbariকক্সবাজার জেলার মহেশপুরের মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র-প্রক্রিয়া স্থগিত নয় সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী কোম্পানির পরামর্শে দর প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দরপত্র জমা দেওয়া শেষ তারিখ ছিল গত ২৪ জুলাই। এখন এক মাস সময় বাড়িয়ে তা ২৪ আগস্ট করা হয়েছে।

জাপানের ঋণে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের বিষয়ে দেশটির দুই কোম্পানি তোশিবা করপোরেশন ও মিতসুবিসি হিতাচি পাওয়ার সিস্টেম আগ্রহ প্রকাশ করেছিল বলে জানা গেছে।

মাতারবাড়ির প্রকল্প কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কাশেম জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে তারা (আগ্রহী কোম্পানিগুলো)  সময় চেয়েছিল। এজন্য দরপ্রক্রিয়ার সময় একমাস বাড়ানো হয়েছে।

তবে ‘জাপান টাইমস’ নামে জাপানের একটি দৈনিকে পত্রিকায় শুক্রবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, গুলশানে জঙ্গি হামলা প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার দরপ্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।

খবরটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন আবুল কাশেম।

সূত্র জানায়, গত ১ জুলাই গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলায় নিহত বিদেশিদের মধ্যে সাতজন ছিলেন জাপানের নাগরিক, যারা ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছিলেন। এরপরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরতা বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারকে চিঠি দেয়।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘সরকার বিদেশি ব্যক্তি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তায় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।’

মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন করেছে একনেক। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকায় এ প্রকল্পে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে। গত বছর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাক-যোগ্যতা যাচাইয়ের দরপত্র (প্রি-কোয়ালিফিকেশন) ডাকা হয়। প্রকল্পের জন্য মাতারবাড়িতে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

কক্সবাজারের মহেশখোলীতে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে রয়েছে সরকারের। এ জন্য জাপান ছাড়াও চীন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন