শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে আসা ছিটমহলে ভোটার সাড়ে ১০ হাজার: তালিকা প্রকাশ সোমবার

Bamnikuti_Enclave_Kurigram_100515_0002ছিটমহল বিনিময়ের এক বছরের মাথায় বিলুপ্ত ছিটবাসীর মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ নাগরিক ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। সোমবার বছরপূর্তির দিনে এই খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী, দাশিয়ারছড়াসহ ভারতের ১১১টি ছিটমহল গত ১ অগাস্ট প্রথম প্রহর থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে যুক্ত হয়। একইভাবে ভারতের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়।

৩৭ হাজারেরও বেশি নাগরিকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকাভুক্ত করার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়েছে সম্প্রতি।

রোববার রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, বিলুপ্ত ছিটমহলে ভোটারযোগ্য ১৩ হাজার ১০৮ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ছবিসহ নিবন্ধিত হয়েছেন সাড়ে ১০ হাজার জনের বেশি। তারা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পাবেন। বাকি আড়াই হাজার এখনও ছবি তুলতে আসেননি।

জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নিবন্ধিত নাগরিকদের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

যারা এখনো ছবি তোলেনি তাদের দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনী অফিসে এসে তারা নিবন্ধিত হতে পারবেন; বাদ পড়ারাও চাইলে ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যারা নিবন্ধিত হয়েছেন তাদের বিষয়ে দাবি-আপত্তিও করা যাবে এই সময়।”

আগামী ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানান আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল।

বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের ভোটার করা শেষ না হওয়ায় এবার অন্তত ২৭টি ইউপিতে নির্বাচন করা যায়নি। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মনিরুল বলেন, “ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগস আনুষাঙ্গিক কাজ শেষে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউপিতে ভোট করা হবে।”

নিবন্ধনে নারীরাই এগিয়ে:
বিলুপ্ত ছিটে অধিবাসী ৩৭ হাজার ৯৩৬ জনের মধ্যে আঠারো বা তার বেশি বয়সী যে ১৩ হাজার ১০৮ জন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে তার মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি; নারী ৬ হাজার ৪১৮ জন এবং পুরুষ ৬ হাজার ৬৯০ জন।

আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টি-বন্যা ভোটার কার্যক্রমে কোনো বাধা হয়নি। নারী ভোটারদের উৎসাহ ছিল বেশি, তারাই ভোটার হিসাবে বেশি সংখ্যক তালিকাভুক্ত হয়েছেন। লালমনিহাটে ভোটার হওয়ার প্রবণতা কম ছিল। আইনি জটিলতাও রয়েছে এখনো। নানা কারণে দুই হাজারেরও বেশি নাগরিক তথ্য দিয়েও ছবি তোলেনি এখন। আশা করি, খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই তারা আবার আগ্রহী হবে।

বিলুপ্ত ১১১ ছিটমহলে ভোটারযোগ্যদের তালিকাভুক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ চলে ১০ জুলাই থেকে ১৬ পর্যন্ত। ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন চলে ১৭ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।

আরও পড়ুন