বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

গভীর রাতে মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে মা-মেয়েকে গণধর্ষণ

Raped-fdfমহাসড়কে গভীর রাতে মা ও তাঁর ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। পরিবারটি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া গাড়িতে ওই নারী, তাঁর স্বামী, কিশোরী মেয়ে, দুই শিশু এবং ড্রাইভারসহ মোট ছয়জন ছিলেন।

গত শনিবার রাতে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বুলন্দশহর রাজপথে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, পারিবারিক অনুষ্ঠানে ‌যোগ দিতে নিজেদের গাড়িতে চড়ে বুলন্দশহরের ৯১ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক দিয়ে নয়েডা থেকে শাহাজাহানপুর জেলায় ‌যাচ্ছিল এক পরিবার। ব্যবসায়ী ওই পরিবারের বসবাস নয়েডা এলাকাতেই। গাড়িতে ওই নারী, তাঁর স্বামী, কিশোরী মেয়ে, দুই শিশু এবং ড্রাইভারসহ মোট ছয়জন ছিলেন।

গাড়িটি ৬৮ নম্বর সড়ক পার হয়ে বাইপাস ধরে ৯১ নম্বর জাতীয় মহাসড়কে আসতেই ঝোপের ভেতর লুকিয়ে থাকা দুর্বৃত্তরা গাড়িতে আক্রমণ করে। প্রথমে গাড়িতে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তারা। এতে গাড়ির পাশের কাঁচ ভেঙে যায়। বিকট আওয়াজ শুনে ব্রেক কষেন চালক। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে গাড়ি থেকে নামতেই গাড়িটিকে ঘিরে ধরে দুর্বৃত্তরা। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ড্রাইভারকে গাড়িটি নির্জন জায়গায় নিয়ে ‌যেতে বাধ্য করে তারা।

এরপর পরিবারের কর্তাব্যক্তিসহ দুই শিশুকে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলে গণধর্ষণ করে ৩৬ বছর বয়সী মা ও কিশোরী মেয়েকে। দেড় ঘণ্টা পর ওই দুইজনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে পরিবারটির কাছে থাকা ১১ হাজার রুপি কেড়ে নিয়ে গাড়িটিকে অচল করে দিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার পর পরিজনরা কিশোরী আর তার মাকে উদ্ধার করলেও ওই রাতে কোথাও যেতে পারেননি। পুলিশ জানায়, রাতভর সাহায্য চাইলেও কোনো গাড়ি থামেনি ওই নির্জন মহাসড়কে। সকালে স্থানীয় একটি হাসপাতালে মা-মেয়েকে ভর্তি করে ওই পরিবার। পরে ওই কিশোরীর অবস্থার অবনতি হলে রোববার দুপুরে তাকে বুন্দেলশহরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরের দিন সকালেই স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে ওই পরিবার। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুমুল আলোচিত হয়।

এনডিটিভি জানায়, ঘটনার অভিযোগের পর ওই এলাকার পাশের গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে উত্তর প্রদেশ পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুন্দেল সিং জানান, অভি‌যোগ পেয়েই তদন্তে ঝাঁপিয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। গঠন করা হয় মোট ছয়টি আলাদা দল।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, মূল অভি‌যুক্তকেও শনাক্ত করা গেছে।

আরও পড়ুন