প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই পবিত্র ধর্ম, এই পবিত্র ধর্মের মান-সম্মান যাতে সমুন্নত থাকে, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে যাতে ইসলাম ধর্ম সব সময় তার স্থান করে নিতে পারে সেটাই আমার কামনা।’
এছাড়া জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে পৃথিবীকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের বসবাসের জন্য ‘কঠিন’ করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার ঢাকার বিমানবন্দরের পাশে আশকোনায় হজ ক্যাম্পে ‘হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও হজ কার্যক্রম-২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা) মানুষ খুন করে কী অর্জন করছে- সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমাদের ধর্ম আমরা যারা পালন করি, তাদের জন্য এই পৃথিবীতে বসবাস করাটা কঠিন করে দিচ্ছে। তারা আমাদের ইসলাম ধর্ম; যে ধর্ম সবথেকে শান্তির বাণী বলেছে, সহনশীলতার কথা বলেছে, সকল ধর্মের অধিকারের কথা বলে গেছে। সেই ধর্মটাকেই আজকে এভাবে হেয়-প্রতিপন্ন করে তারা কার স্বার্থ রক্ষা করছে আর কী অর্জন করছে- সেটাই আমার প্রশ্ন?”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার দুঃখ লাগে খুব, খুব কষ্ট লাগে, যখন আমি দেখি কিছু বিপথগামী ঠাণ্ডা মাথায় নিরীহ মানুষ হত্যা করে। আমি বলব, যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে, তারা ইসলাম ধর্মের কোনো ভালো কাজ করছে না বরং ইসলাম ধর্মটাকে অন্যের কাছে হেয় করে দিচ্ছে। অন্যদের কাছে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে একটা ভীতি সৃষ্টি করে দিচ্ছে।”
শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসের কোনো ঠাঁই হবে না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “যারা বিপথে যেয়ে খুন-খারাবি করে, মানুষ হত্যা করে আমাদের পবিত্র ধর্মকে হেয়-প্রতিপন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে সোচ্চার হতে হবে। বাবা-মা-অভিভাবক-শিক্ষক থেকে শুরু করে সবাইকে যার যার কর্মস্থলে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যে, বিপথে যেন আমাদের ছেলে-পেলেরা না যেতে পারে।”
শেখ হাসিনা এসময় তার সরকার আমলে হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও ধর্ম পালনে মানুষের সুবিধায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, “আমরা এভাবে প্রতিটি কাজ করে যাচ্ছি যাতে আমাদের এই পবিত্র ধর্মটা যেন মানুষ যথাযথভাবে পালন করতে পারে।”
হজযাত্রী পরিবহনের সুব্যবস্থা, তাদের আবাসনের সুন্দর ব্যবস্থা, জেদ্দার পাশাপাশি মক্কায় হজ অফিস করা, জেদ্দা বিমানবন্দরে টার্মিনাল প্লাজা ভাড়া করে সেখানে চিকিৎসা, তথ্য-প্রযুক্তি সেবার ব্যবস্থা করাসহ নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন,“কোনওরকম অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সেদিকে আমরা লক্ষ রাখছি।”
শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে হজে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। যেখানে ২০০৬ সালে হজযাত্রী ছিল ৪৭ হাজার ৯৮৩ জন সেখানে এ বছর হজযাত্রী ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন।
বেশি সংখ্য মানুষকে হজের সুযোগ দেওয়ায় সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া বা এশিয়ার মধ্যে হজ ব্যবস্থানায় বাংলাদেশ সবসময় সবথেকে ভালো অবস্থানে আছে এবং সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় এর ব্যাপক প্রশংসা করছে। বাংলাদেশকে ২০১৪ সালে হজ ব্যবস্থাপনায় শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতিও দিয়েছিল।
নতুন করে কেউ যেন হজে যাওয়ার নাম করে অবৈধভাবে সৌদি আরবে থেকে যেতে না পারে সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “কেউ যেন হজ বা ওমরাহর নাম করে গিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে থেকে না যায় সে ব্যাপারেও আমরা যথেষ্ট সতর্ক। এটার ব্যাপারে সৌদি সরকারের আপত্তি ছিল। সেদিকে আমরা যথেষ্ট দৃষ্টি দিয়েছি।”
এবছর যারা নিবন্ধন করেও হজে যেতে পারছেন না, আগামী বছর তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সে বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ ব্যবস্থাপনা জড়িতদের দৃষ্টি রাখার আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা।
এবারের হজ
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (৯ জিলহজ) হজ হওয়ার কথা।
বাংলাদেশ থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯১ হাজার ৭৫৮ জন ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার মানুষ হজে যেতে পারবেন।
হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট ছাড়বে ৪ অগাস্ট; চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ফিরতি ফ্লাইট ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
১ লাখ ২ হাজার ৬৪ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরবে নিয়ে যাবে বিমানের ১১২টি বিশেষ ফ্লাইট ও ৩২টি নির্ধারিত ফ্লাইট।
ফিরতি যাত্রীদের জন্য থাকবে ১০৫টি বিশেষ ফ্লাইট ও ২৯টি নির্ধারিত ফ্লাইট।


