ফেনী-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকছে কি না- তা জানা যাবে আগামী ১৭ আগস্ট। হাজারীর এমপি পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা এক রিটের শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ রায়ের এই দিন ঠিক করেন।
আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও নুরুল ইসলাম সুজন। আর রিটের পক্ষে শুনানি করেন কামরুল হক সিদ্দিকী ও সত্য রঞ্জন মন্ডল।
শুনানিতে নিজাম হাজারীর আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন সঠিকভাবে দেয়া হয়নি। এই প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক আছে। নিজাম হাজারী পুরো সাজা খেটেই বের হয়েছেন। এ ছাড়া জনস্বার্থে এই রিট মামলা চলতে পারে না।’
পরে রিটকারীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ‘নিজাম হাজারীর সাজা খাটা নিয়ে বিতর্ক আছে- এটা নিশ্চিত। এখন কোর্টের দায়িত্ব হল আসলেই তিনি কতদিন সাজা খেটেছে, সাজা কম খেটেছে কিনা সেটা বের করা, আর এ অবস্থায় তার সংসদ সদস্যপদ থাকে কিনা- এটার বিচার করা।’ পরে আদালত রায়ের জন্য ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
এর আগে ১৯ জুলাই হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আড়াই বছর সাজা কম খেটে বেরিয়েগেছেন মর্মে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন কারা কর্তৃপক্ষ। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ বছরের সাজার মধ্যে তিনি সাজা খেটেছেন ৫ বছর ৮ মাস ১৯ দিন।
উল্লেখ্য, ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে ২০১৪ সালের ১০ মে একটিজাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীরসংসদ সদস্যপদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া। রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রুল দেন।
কোন কর্তৃত্ব বলে তিনি এমপি পদে দায়িত্ব পালন করছেন রুলে তা জানতে চাওয়াহয়। এরপর হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ এই রুল শুনানিতে বিব্রতবোধ করেন। তারপর বিচারপতি মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য পাঠান প্রধান বিচারপতি। এই বেঞ্চে গত ১৯ জানুয়ারি রুল শুনানি শুরু হয়।


