বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

আসাম থেকে আসা হাতিটি উদ্ধারের চেষ্টা শুরু

Elephant-rescue-teamএক মাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের উত্তরের চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়ানো ভারতের বুনো হাতিটি উদ্ধারে সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে আসাম থেকে আসা ভারতীয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ দলও বৃহস্পতিবার বিকালে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে পৌঁছেছে।

উপজেলার সোনাকান্দা ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের পাশেই ঘোরাফেরা করছে হাতিটি। সবশেষ বৃহস্পতিবার বিকালে হাতিটিকে একটি জলাশয়ে দেখা গেছে।

বন অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ সাবেক উপ-প্রধান বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে, উপ-বন সংরক্ষক সাহাব উদ্দিন এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দলের তিন বিশেষজ্ঞ রিতেশ ভট্টচার্য্য, কৌশিক রায় ও এস এ তালুকদার ঢাকা থেকে সরিষাবাড়িতে পৌঁছেছেন।

ভেটেরিনারি সার্জন সৈয়দ হোসেনসহ ১৭ সদস্যের একটি কারিগরি দল কয়েকদিন ধরেই অবস্থান নিয়ে আছে হাতির আশপাশে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের একটি টিমও পৌঁছেছে সেই এলাকায়।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ তপন কুমার দে বলেন, “জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে। নৌকায় করে হাতিটির কাছে যাব। ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি হাতির অবস্থান দেখার পর উদ্ধারের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পশু চিকিৎসক সৈয়দ হোসেন বিকাল সাড়ে ৫টায় বলেন, “উদ্ধার অভিযানের সব প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখা হয়েছে। এ উদ্ধার কাজের নাম হতে পারে-‘বন্যপ্রাণীর জন্যে ভালোবাসা’। ট্রাঙ্কুলাইজ গান, ড্রাগস, রশি, মাহুত, খাবার ও পরিবহন প্রস্তুত। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে আলোচনা করে এক কিলোমিটার এলাকা নিরাপদ রাখতে বলা হয়েছে।”

তিনি জানান, সোনাকান্দা ইউনিয়নের বড়বাড়িয়া গ্রামের আশপাশেই ঘুরছে হাতিটি। কোনো ধরনের ক্যাজুয়ালটি ছাড়াই তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা প্রস্তুত। গ্রামবাসীকে নিরাপদে থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হাতিটিকে কীভাবে উদ্ধার করা হবে সে বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, হাতিটিকে শুকনো এলাকায় খাবার দেওয়া হবে। তারপর তাকে সেদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে। মাঠের দিকে শুকনো জায়গায় উঠলেই ফেভারেবল কন্ডিশন পেলেই তাকে ট্রাঙ্কুলাইজ করা হবে। এরপর ট্রাকে তুলে নিরাপদ জায়গায় নেওয়া হবে বলে জানান সৈয়দ হোসেন।

ট্রাকে তুলতে প্রয়োজন হলে পাশ্ববর্তী কারখানা থেকে ক্রেইন আনার বিষয়ে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের প্রস্তুতির কথাও জানান এ চিকিৎসক।

সৈয়দ হোসেন জানান, হাতিটিকে জামালপুর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নেওয়া হবে, না কি ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে- তা কয়েক ঘণ্টা পরেই ভারতীয় দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ করা হবে না কি আরও সময় লাগবে- তাও দুই পক্ষ ঠিক করবে।

আরও পড়ুন